হিমাদ্রী চৌধুরীর এক গুচ্ছ কবিতা

Home/কবিতা/হিমাদ্রী চৌধুরীর এক গুচ্ছ কবিতা

হিমাদ্রী চৌধুরীর এক গুচ্ছ কবিতা

লাশ

…মূলত আমি লাশ– অথচ আমাকে সবাই সজীব দ্যাখো! আমি বক্ষের ভিতর যন্ত্রণা (বিরহ) পুষে রাখি,কারণ মৃত্যুর আগেই তুমি ছুঁয়েছো আমায়।

ক্ষুধা

ক্ষুধার গেলাসে তোমাকে ঢেলে দিয়ে
অমৃত ভেবে গিলে খাই রাত-দিন,
ক্ষুধাই যেন সত্য প্রভাত বাতি
ক্ষুধাই যেন পৃথিবীর মহাঋণ।

দূরত্ব

আজন্মের এই অপেক্ষমান হিয়া
প্রহর কাটে ভাবনার সীমারেখায়,
ইচ্ছেরা রোজ ডানা মেলে যায় উড়ে
তবুও মোদের দূরত্ব বেড়ে যায়।

মানুষ-অমানুষ

মানুষের পৃথিবীতে যখন অমানুষ স্পার্ম ছড়ায়,
তখন কবিতার বুকে সঙ্গমের ঘ্রাণ বিবাগী হয়।
যুবতীর স্তন যেন সূর্যমুখী ফুল- নিরব কান্নায় কষে সৌরভ আর পোড়া গন্ধের হিসাব।
অথচ, মানুষই একদিন অমানুষ ছিল,
মানুষই মানুষ হতে অমানুষ হয়ে যায়।

খায়েশ

ময়নাদ্বীপ যাবি কপিলা?
আমি এক হুসেন মিয়ারে চিনি
যে আমারে কইছে-“একটা ডিঙ্গি কিন্ন্যা দিমু মাঝি,
শুকনা রুটির বদলে
ইলিশের ঘেরানে মাখা মরিচ-পান্তা খাইবা”।
তোর রিন্তি ঐখানে বড় হইবো;
মানুষের মত মানুষ না হইলেও
আমি যখন ডিঙ্গি নিয়া পদ্মার বুকে ভাসান দিমু
আমার কোঁচে টান দিয়া কইবো-
“বাপজান, ইলিশের বাচ্চাগুলা মরার পরও ক্যামনে চাইয়া থাকে, আমার কান্দন আহে”।
মাঝ রাইতে খালি পাতিল উপুর কইরা
তুই পদ্মার জলে আমার চোখ ধুয়াইয়া কইবি-
“মাঝি গোস্যা নি করো?
কি করমু কও, চাল বাড়ন্ত”।
আমি তখন শিরার বাঁন খুইলা
তোর বুকে জাল ফেলমু
বাবুগো হাজার টাকার জাল না,
আমার ঘামে ভেজা প্রাচীন সোঁদা গন্ধের জাল।
ঐটাতে ধরা পড়বো তোর চিক্কুর দেয়া খিলখিলাইন্না হাসি,
পদ্মার চরে রাতের লগে পাল্লা দিয়া
আমাগো কুঁপির আলোও বাড়ন্ত হইবো।
যাবি কপিলা? ময়নাদ্বীপে?

(পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাস অবলম্বনে)

By | 2018-05-17T16:47:09+00:00 May 17th, 2018|কবিতা|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

error: Content is protected !!