সুবর্ণলতা । প্রকৌশলী ফাহিম মাহমুদ

Home/ছোট গল্প/সুবর্ণলতা । প্রকৌশলী ফাহিম মাহমুদ

সুবর্ণলতা । প্রকৌশলী ফাহিম মাহমুদ

এই শোন, এই মেয়ে, আরে তোমাকেই বলছি। এই মেয়ে, এই…. আজব তো। তোমাকে জলজ্যন্ত একটা মানুষ ডাকছে তুমি শুনছ না?

সে আমার ডাকে কোন সাঁড়া দেয়নি। নিজে নিজের মত করে হেঁটে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত সে আমার আবেদন শুনছে, কেন সাঁড়া দেয়নি ঠিক বুুঝতে পারছিনা। নাকি আমাকে পরিহার করছে। কি কারণে করছে তা ও তো বুঝতে পারছি না।

আমরা দু-জনই রেল লাইলের মেঠো পথ ধরে হাঁটছি। দু-পাশে কাঁশফুল। পরিবেশটা নিদারুন। যাকে ডাকছি পিছন থেকে, সেই ললনাটি আমাদের একই ডিপার্টমেন্ট এ একই লক্ষ উদ্দেশ্য নিয়ে পড়ছি। আমাকে সে ভাল করে চিনে। আরো আগে কথা হয়েছিল একবার ক্ষনিকের জন্য।

তার সম্পর্কে দু-চারটে কথা না বললে হয়ত খারাপ দেখা যাবে। তাই কিছু বলা বাঞ্চনীয়। সে দেখতে কালো বর্ণের। স্বভাবটা একেবারে উড়ন্ত পাখি। মানে শতভাগ চঞ্চল। আমার চাইতে ১ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। হতে পারে বললে ভুল হবে। তার সাথে আরো একবার আমার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল তাতেই আমি উপলব্ধি করেছি। তাই আমার মুরব্বী (শ্রদ্ধার পাত্র) বলা যেতে পারে। বিশেষ্য (নাম) এর দিক দিয়ে তাকে কালো ভ্রমর উপাধি দেওয়া যায় আর বিশেষণের (গুণ) দিক দিয়ে ব্ল্যাক ডায়মন্ড। ব্লেক ডায়মন্ড নাম দেওয়ার পিছনে একটি মানুষের যত গুলি গুনের অধিকারী হতে হয় তার মঝে সব-ই অবস্থিত। কথাগুলো তার অনেকটা কাব্য ধর্মী এবং যুক্তিমূলক বটে। যুুক্তিবাদী বললেও ভুল হবেনা। অনেক সরল ও বটে, অনেকটা নদীর বুকে বয়েচলা পয়বিন্দু কিংবা ঝর্ণার ফোঁটা ফোঁটা করে ঝরে পড়া আখিঁনীর, চুলের কথা না বললে অপূর্ণ থাকবে। তার চুলগুলি কয়লার চেয়ে কালো কিছু থাকলে তার উদাহরণ, কবি জীবনানন্দ দাশের দুটি কথার সাথে একেবারে মিল :-

“চুল তার কবেকার অন্ধকার

বিদিশার নিশা”

কবি জীবনানন্দ দাশ যদি তাকে দেখতেন আমি নিশ্চত তার চুল নিয়ে একটি কবিতা লিখতেন। তবে আমার সবচাইতে ভালো লাগে তার হাসি। একেবারে নিখুত। তবে আট দশটা মেয়ের মত সোনার চামচ মুখে দিয়ে তার জম্ম হয়নি। একটা বস্তিতে তার বেড়ে উঠা। তাই বলে যে তাকে ঘৃণা করছি তা নয়। আমাদের জানা আছে ময়লা-আবর্জনায় অনেক পুষ্টিকর খাদ্য মাসরুম জম্মায় যা আমাদের বেশ কয়েকটি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সে অনেক আদরে মাখা তার পরিবারের মধ্যে, মায়ের একটি মাত্র মেয়ে। শুধু এটি বললেই বুঝা যায় কতখানি আঁদরে মাখা, তার সাথে আমার একটি জায়গাতেই মিল। আমিও আমার পরিবার এর মধ্যে সবার ছোট এবং আদরের পাত্র, তাই সব রকম জোর খাটানো যায়।

যাক সে সব কথা। সে কেন আমার ডাকে সাড়া দেইনি সে নিয়ে আমি বিরাট টেনশনে আছি, কারণ জানার জন্য আমি মরিয়া হয়ে উঠেছি। পরের দিনই কলেজে দেখা হলে জিজ্ঞাসা করব এ বলে আমি নিজেকে সান্তনা দিচ্ছি বার বার। তবে মন অন্য পন্থা অবলম্বনের দিক-নির্দেশনা ও দিচ্ছিল। দিক-নির্দেশনাটি ছিল তার সাথে আর কথা না বলা। দ্বিতীয় নির্দেশনাটিকে তুচ্ছ করে একপাশে রেখে দিয়ে প্রথম নির্দেশনাটি ঠিক করে নিলাম।

পরের দিনই আমি তার দেখা পাওয়ার লোভে রেল লাইলের মেঠো পথ ধরে হেঁটে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে রওনা হলাম। কিন্তু তার দেখা মেলছেই না। যে পথটা হেঁটে কলেজে যেতে সময় লাগে ৫ মিনিট আর আমি ১৫ মিনিট ব্যায় করলাম। বার বার শুধু পিছন ফিরে তাকাতে লাগলাম তার আশায়। যদিও কবি বলেছিলেন…….

“হও আগুয়ান সম্মুখে”

কবির কথাটাকে আমি অমান্য করে আরো কয়েকবার দেখে নিলাম। আবার ও পন্ড্রশ্রম। ফলাফল জিরো। মন কে প্রশ্ন করছিলাম… ‘কাল যাকে দেখছিলাম সে কি আসলে মানুষ, নাকি পরী ???’ ভাবতে ভাবতে কলেজে, ডির্পাটমেন্ট এর সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই পাশ ঘেঁষে সে উলম্ব। আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। সব বাক-শক্তি হঠাৎ যেন ধংস হয়ে গেল, শত চেষ্টা করে ও কোন কথা বলতে পারছিলাম না। মিনিট কয়েক পর……

দুজনে একই সাথে ‘কেমন আছো?’ কারো উত্তর মেলেনি। পরক্ষনেই…..

Þ আচ্ছা তুমি কি আমাকে গতকাল পিছন থেকে ডেকেছিলে?

Þ আমি? না তো!!

Þ ভণিতা করোনা, আমি নিশ্চিত তুমি আমাকে ডেকেছিলে,

Þ যদি এতই নিশ্চিত ছিলে তাহলে পেছন ফিরে তাকালেই পারতে,

Þ দেখো প্রতিটা পদার্থের একটা করে নাম থাকে পরিচয় দেওয়ার জন্য, আমার ও তো একটা কিছু আছে তা নয় কি? নাকি আমি অপদার্থ?

Þ যা যুক্তি খাটিয়েছ তাহলে তো মেনে নিতেই হবে যে তুমি পদার্থ, তবে অপদার্থ এর ও নাম আছে, যেমন “আমড়া গাছের ঢেঁকি” যদিও আমড়া গাছের ঢেঁকির আয়তন, ওজন ও স্থান দখল করার ক্ষমতা আছে তবুও সেটি অপদার্থ, সে দিক দিয়ে তুমি অপদার্থ ও নও, আর যে হারে তুমি কথার বদলে আমার দিকে কবিতার লাইন ছুঁরে মারছ সে হারে মেঘনাধবদ মহাকাব্য ও বিনা দ্বিধায় হার মানবে, এবার নাও একটু অবসর।

Þ তুমি কি আমাকে আগে থেকেই চিনতে?

Þ কেন বলোতো?

Þ যে ভাবে পিছন থেকে আবেদন পত্র পাঠাচ্ছিলে যদি বিষয়টা ‘এক বছরের ছুটি চেয়ে আবেদন পত্র ’ হত কোন প্রধান শিক্ষক এর কাছে, নিশ্চিত তা মঞ্জুর হত,

Þ তা আমি মানতে পারছিনা, যদি তাই হত তাহলে তোমার বেলায় উল্টা কেন?

Þ তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি, আমার উত্তর তো দিলানা।

কি যেন বলছিলে……

Þ তুমি কি আমাকে আগে থেকেই চিনতে?

Þ না।

Þ তো?

Þ আসলে মানুষ কে কয় জনকে চিনে? হয়ত তুমি তোমার পরিবার আর বাহিরের গুটি কয়েক প্রিয় মুখ, এছাড়া তো বেশি নয়, তেমনি তুমি ও একজন, অজানাকেই তো জেনে নিতে হয়, এখন বল তোমার সম্পর্কে, অজানাকে একটু জেনে নিয়ে নিজেকে একটু সান্তনা দিই।

Þ হাম!! আমি কথা বললেই মহাকাব্য আর তোমার কথাগুলো কি? যে কোন সাহিত্যিক তো একেবারে প্রতিযোগিতা ছাড়ায় দুই হাত তুলে হার মেনে নিবে। যাক আমি সুবর্ণলতা।

Þ সুবর্ণলতা!! তুমি কি রবি ঠাকুরের সুবর্ণলতা গল্পের সুবর্ণলতা !!

Þ না না আমি অতকিছু নই, আমি আমার মায়ের সুবর্ণলতা, ছোট একটি পরিবারে অভাব কে সঙ্গি করে জম্ম।

Þ নিজেকে এত ছোট করে দেখছ কেন? পদ্মফুল তো ময়লা আবর্জনায় ফোটে, কবি বলেছেন……

“ তুমি হয়তো তোমার কাছে কিছুই না,

কারো কাছে তুমি তার পৃথিবী।”

Þ তুমি তো খুব সুন্দর করে কথা বল!!

Þ এসব তো আমার কথা নয়, সব কবি সাহিত্যিকদের কথা, আমি শুধু তা সঠিক স্থানে প্রতিস্থাপন করি।

Þ সঠিক স্থানে প্রতিস্থাপন করতে পারাটা তো অনেক কষ্ট সাধ্য, সবার তো তা হয়ে উঠে না।

Þ Oh god!! ক্লাস বুঝি শুরু হয়ে গেল, চল যাওয়া যাক……..

Þ যাব তবে god!! সম্পর্কে কিছু বলতে চাই, আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেছেন…

“হে রাসূল! আপনি বলে দিন ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জম্ম দেননি, কারো থেকে জম্ম নেন নি। তাঁর সমতুল্য বা সমকক্ষ কেউ নেই।”

আর যদি আমরা হিন্দুদের ছান্দগ্য উপনিষদের দিকে যায় তাহলে দেখা যাবে অধ্যায় ৬, পরিচ্ছেদ ২, অনুচ্ছেদ ১ এ উল্লেখ করা আছে…

“বল তিনিই আল্লাহ যিনি এক ও অদ্বিতীয়। স্রষ্টা মাত্র একজনই দ্বিতীয় আর কেউ নেই”

আর যদি god এর সাথে father যুক্ত করি তাহলে হয় godfather এর অর্থ দাড়ায় সৃষ্টিকর্তার বাবা। কিন্তু মহান আল্লাহ এর কোন লিঙ্গ নেই। আর যদি GOD এর সাথে S যুক্ত করি তাহলে হয় GODS এর অর্থ অনেকগুলো সৃষ্টিকর্তা কিন্তু ইসলামে অনেকগুলো সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নেই।

হিন্দুদের শ্বেতাপত্র উপনিষদে অধ্যায়-৬ পরিচ্ছেদ-৯ এ আছে….

“তাঁর কোন বাবা মা নেই, তাঁর কোন প্রভূ নেই, তাঁর চেয়ে বড় আর কেউ নেই।”

সুতরাং বলা যায় আমরা ইংরেজীতে god নামে আল্লাহ কে ডাকব না, প্রয়োজনে Almighty ব্যবহার করব।

Þ সুবর্ণলতা- তাহলে তো আমরা অনেক বড় ভুল করি প্রতিদিন। ধন্যবাদ, ভুল শুধরে দেওয়ার জন্য, ওহ হ্যাঁ তুমি তো হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে অনেক কিছু জান, ধর্ম পরিবর্তনের ইচ্ছা আছে না কি?

Þ আদি– আমি সব ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহন করতে চেষ্টা করছি…. তাই একটু একটু জানা, তবে ধর্ম পরিবর্তন করে নাস্তিক হতে চাই না।

Þ সুবর্ণলতা- ঠিক আছে, চল ক্লাসে যাওয়া যাক…

ক্লাসে বসার জায়গা সংকুলান, তাই তার পাশেই বসতে হল, এটা আমার প্রথম অভিজ্ঞতা, অনেকটা অস্থির অস্থির লাগছিল, ক্লাস শেষ, এবার বাড়ি যাওয়ার পালা। আমি সীতাকুন্ড থেকে আসা যাওয়া করতাম।

আমি তো আসলে নির্বোধ, আমার সম্পর্কে তো এখনো কোন কথা বলিনি, দু:খিত পাঠকবৃন্দ। আমি সুবর্ণলতা, সীতাকুন্ডে আমার জম্ম, যেখান থেকে পাহাড় ও সমুদ্র একসাথে উপলব্ধি যায়, যা পৃথিবীতে বিরল দৃশ্য। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এ কম্পিউটার বিভাগের উপর ডিপ্লোমা পড়ছি ভবিষ্যতে একজন দেশ বরেণ্য ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার লক্ষে। লেখা পড়ার পাশা পাশি লেখালেখি, খেলাধুলা ও মঞ্চ নাটক করি, তাছাড়া বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে পড়ালেখা করি। গল্পে আসা যাক।

আমি ও সুবর্ণলতা রেল লাইলের মেঠো পথ ধরে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। রেল লাইলের পাশেই তার বাড়ী, তাই বেশী দূর পর্যন্ত তার সাথে যাওয়া হয় না, তবে ঐ দিনই পরিচয় পর্বের সমাপ্তি।

বন্ধুত্বটা ও হয়ে গেল। বন্ধুত্বের জন্য তার কাছে অনুমতি চাইতে হয়নি। মেলা মেশাটা অনেক বেড়ে গেল। মোবাইল নাম্বারটা ও আমার ভান্ডারে জমা হল। মোবাইল নাম্বারটা চাইতে সে আট-দশটা মেয়ের মত আমতা আমতা কিংবা দ্বিমত পোষন করেনি, শুধু বলেছিল তোমার ফোনের জন্য অপেক্ষায় থাকব…

মনের আনন্দে তাকে পেয়ে কয়েকটি লাইন লিখেছিলাম।

আমি জয় করেছি আজ-

বিশাল সিন্দু,

জয় করেছি –

পর্বতমালা হিমালয়;

যা ছিল অসাধ্য,

করেছি সব সাধ্য,

গেয়েছি বেসূরা কন্ঠে গান,

রেখেছি তবুও গানের মান।

লিখেছি বহু কাব্য,

নিয়ে কিছূ ভুল চরণ ভূল শব্দ।

আরোহন করেছি বৈলাম বৃক্ষে,

তোমায় পেয়ে।

তাকে আমি প্রথম কল করেছিলাম নাম্বার নেওয়ার আরো ১৫ টা দিন-রজনী কাটানোর পর।

Þ আদি- হ্যালো…

Þ সুবর্ণলতা- কে বলছেন?

Þ আদি-আমি।

Þ সুবর্ণলতা- আমি টা কে?

Þ আদি-জানাটা কি বেশি জরুরী?

Þ সুবর্ণলতা- আজব তো! ফোন করলেন আর পরিচয় দিচ্ছেন না। ঠিক বুঝলাম না।

Þ আদি: বুঝার দরকার নাই, ফোন করছি কথা বল,

Þ সুবর্ণলতা: আপনি নাম্বার কোথায় পেলেন?

Þ আদি: দেখুন রাস্তায় যখন গাঁড়ি চলে একদিন না একদিন দূর্ঘটনা ঘটবে, ঠিক তেমনি মোবাইল ব্যবহার করলে মোবাইল নাম্বার কেউ না কেউ পাবেই, সেটা হোক ভুল বশত কিংবা জেনে শুনে।

Þ সুবর্ণলতা: হ্যাঁ কথার মধ্যে যুক্তি আছে, তো আপনি কী ভুল বশত নাকি জেনে শুনে কল দিয়েছেন?

Þ আদি: যে কোন একটা ধরে নাও, তাতেই চলবে, কথা তো বলা যাবে, নাকি আমি ভুল বললাম?

Þ সুবর্ণলতা: হয়েছে হয়েছে আর যুক্তি দিয়ে যুক্তিবাদীর মত কথা বলতে হবেনা, পরিচয় দিন না হয় রাখলাম,

Þ আদি: না, দিবনা, পারলে চিনে নাও,

আর বিলম্ব না করে ফোনটা রেখে দিল। আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি তাকে আজ অনেক জ্বালাতন করব, পূনরায় কল করলাম নিজের প্রতিজ্ঞা পূরণ করার জন্য।

Þ আদি: কি হলো, রাখলে যে,

Þ সুবর্ণলতা: না রেখে কি আপনার সাখে আজাইরা গল্প করব?

Þ আদি: আমি এক অজানা মানুষ, কথা বলে অজানাকে জেনে নেওয়াটা কি উত্তম নয়?

Þ সুবর্ণলতা: আপনার কথাটা কেন জানি পরিচিত পরিচিত লাগছে, আপনি……..আপনি সুবর্ণলতা না?

Þ আদি: যা হোক চিনলে তাহলে, যদিও অনেক দেরি হয়েছে, তুমি কি করছ?

Þ সুবর্ণলতা: এইতো আছি, আজকের দিনটা কিভাবে কাটলো তা লিখছি,

Þ আদি: তুমি কি দৈনন্দিন অতিবাহিত খাতা ব্যবহার করো নাকি?

Þ সুবর্ণলতা: মানে?

Þ আদি: মানে ডায়েরী,

Þ সুবর্ণলতা: হ্যাঁ। তাছাড়া লেখালেখির অভ্যাস আছে, তুমি লিখ?

Þ আদি: লিখি বলেল ভুল হবে, প্রচুর লিখি, জান ? আমি এস.এস.সি টেষ্ট পরীক্ষার হলে বসে কবিতা লিখেছি।

Þ সুবর্ণলতা: তাহলে তো কবি বলা যায়, যদিও কোন কবি এরকম সাহস নিয়ে পরীক্ষার হলে কবিতা লিখেনি, সে দিক দিয়ে তোমাকে কবির চেয়ে বড় কিছু বলা যায়।

Þ আদি: পরীক্ষার হলে কবিতা লিখা কবিতাটি শুনবে?

Þ সুবর্ণলতা: কেন না, শুনাও

Þ আদি: নাহ্ থাক, অন্য দিন শুনাব, তো লিখা কতটুকু লিখলে?

Þ সুবর্ণলতা: লিখা শেষ, এখন আমি আম্মুর পানদানি থেকে পান চুরি করে খাচ্ছি,

Þ আদি: ভাল তো, পান খাওয়া কিন্তু খারাপ না, এটির ফলে ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়,

Þ সুবর্ণলতা: কি বলছ?

Þ আদি: হ্যাঁ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ঔষুধের মত কাজ করে। পান চিবানোর মাধ্যমে এক ধরনের বোনম্যারো ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ায় করে যায়, তবে অবশ্যই পানের সাথে চুন, সুপারি, জর্দ্দা খাওয়া যাবে না, এগুলো খাওয়ার ফলে মুখে ক্যান্সার হতে পারে। পান খেলে ক্যান্সার রোগ ছাড়াও হজমশক্তি বৃদ্ধি, গলার আওয়াজ পরিস্কার, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন এবং অস্থিমজ্জাতে রক্তের শ্বেতকণিকা তৈরীতে সাহায্য করে কেননা পান পাতায় অ্যালকোহলিক নির্যাসের প্রধান উপাদান হাইড্রোকসিশ্যাভিকল পদার্থ থাকে,

Þ সুবর্ণলতা: ভাই তোমাকে কি যুক্তিবাদি বলে মনে হয় ভুল করেছি, তুমি তো একজন বিজ্ঞান বিশারদ, আমি ভেবে পাচ্ছিনা তোমাকে কি নামে ডাকবো একটু ঠিক করে বলোতো,

কথার মাঝে সে কখন যে আপনি থেকে তুমিতে চলে এসেছে সে নিজেও জানে না। আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিই নাই, যদি আবার তুমি থেকে আপনিতে চলে যায় সেই ভয়ে, তবে আপনি থেকে তুমি তে সচারাচর যাওয়া যায় কিন্তু তুমি থেকে কেউ আপনি তে যেতে পারে না যেমনটা বন্ধুত্ব থেকে ভালবাসা সৃষ্টি হয় কিন্তু ভালবাসা থেকে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয় না। দুইটা-ই একে অপরের সাথে জড়িত।

Þ আদি: অতকিছু ভাবার দরকার নাই, আমি সুবর্ণলতা, তো সুবর্ণলতা বলে ডাকলে আমি সাঁড়া দেব, ছুঁটে আসবো মাইক্রো-সেকেন্ডের মধ্যে যেখানে থাকো না কেন,

Þ সুবর্ণলতা: ঠিক আছে, সুবর্ণলতা বলেই ডাকব, আগামীকাল তোমার কবিতার ডায়রীটা কলেজে নিয়ে আসতে পারবে ? কবিতা গুলো পড়ে দেখব,

Þ আদি: তুমি চাইলে আর আমি না এনে পারব? আমার একজন পাঠক তো বাড়বে।

Þ সুবর্ণলতা: আচ্ছা আজ রাখব।

Þ আদি: ওকে। শুভরাত্রি।

Þ সুবর্ণলতা: এত দেরি হলো কেন?(পরের দিন কলেজে)

Þ আদি: প্রচুর জ্যাম, তাই আসতে দেরি হয়ে গেল।

Þ সুবর্ণলতা: ডায়েরী আনছো?

Þ আদি: এই নাও, কবে দিবে?

Þ সুবর্ণলতা: কবে দিব ঠিক জানি না, তবে রেখে দিব না, কিংবা ছিঁড়ে ও ফেলবো না।

Þ আদি: জানি একজন কবি অন্যজন কবির কবিতা ছিঁড়ে না প্রয়োজনে আরেক জন কবিকে জীবন থেকে ছিঁড়ে ফেলে। যদি সে কবিতা কে ছিঁড়তো তাহলে সে কবিতা লিখতে পারতো না, আর যারা ছিঁড়ে তারা কোন কবি নয় বরং একজন পাগল কিংবা ভন্ড কবি, যার কোন অধিকার নেই কবিতা লিখার,

Þ সুবর্ণলতা: হয়েছে, বেশ হয়েছে, চল ক্লাসে যাওয়া যাক…

আমাদের চলা ফেরা দেখে সবাই মনে করছে আমাদের মাঝে প্রেম নামক কোন কিছু চলছে। মনে করার ই কথা, একসাথে বসা, চলা ফেরা, দুষ্টমি করা সবই মিলিয়ের অনেকটা প্রেম করলে যে অবস্থা দেখা যায় তারই মত। তোমার পরিবর্তে তুই শব্দটা ও ব্যবহারের অনুমতি অর্জন করেছি। আমার একটা গুন আল্লাহ দিয়েছে তা হল আমি সহজে সবাইকে হাসাতে পারি এবং হাসতে পারি। এ কারনে ক্লাসের সবার সাথে আমার ভাল সম্পর্ক, ক্লাসে প্রায় বন্ধুরা আমার সাথে আড্ডা দেয়, গুটি কয়েক বন্ধু আছে যারা শুধু আমার মুখ থেকে জোকস শুনার জন্য বসে থাকে। আমি একটানা ৫০ কিংবা তার সমতুল্য সংখ্যাক জোকস বলতে পারি। তবে এটা আগে বলার ক্ষমতা আমার ছিল না, এর পিছনে কামালের (আমার ভাল বন্ধু, একই ক্লাসে পড়ি) অবদান অনেকটা বেশি। যাক সে সব কথা, গল্পে আসা যাক।

বেশ কিছুদিন সুবর্ণলতার সাথে মুঠো ফোন কিংবা সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, কলেজে ও যাওয়া হয়নি, বেশ জ্বর ছিল।

পরের দিন কলেজে যাওয়ার জন্য বের হলাম। চারদিক রিক্সা খুঁজছিলাম কিন্তু একটির ও দেখা মেলেনি, হামজারবাগ থেকে হাঁটা শুরু করলাম….. হেটে মুরাদপুর পর্যন্ত পথ পাড়ি দিলাম, আবার ও রিক্সার অপেক্ষায় অপেক্ষারত, পেছন থেকে… ভাই কই যাইবেন?

আদি: টেকনিক্যাল কলেজ।

Þ রিক্সা চালক: চলেন।

Þ আদি: কত দিতে হবে?

Þ রিক্সা চালক: ২৫ টাকা দিলে হবে,

Þ আদি: ২০ টাকা দিব, যাবে?

Þ রিক্সা চালক: না।

Þ আদি: ২২ টাকা দিব,

Þ রিক্সা চালক: না, যাব না ভাই,

Þ আদি: তোমরা কি ১৪৪ দ্বারা জারি করেছ নাকি যে, যা বলবে তা দিতে হবে? আমাদের কিন্তু ১৪৪ দ্বারা আইন ভঙ্গ করার সাহস আছে, তা একবার প্রমান ও দিয়েছি, আচ্ছা চল যাওয়া যাক,

Þ রিক্সা চালক: না, এখানে দাম ঠিক করে নেন, না হয় যথা স্থানে গিয়ে ভেজাল করবেন,

দিব দিব চল…..

রিক্সায় উঠে বসলাম তখনই রিক্সা চালক আমাকে বলে উঠল…

Þ রিক্সা চালক: যানেন ভাই টাকার দাম যে হারে কমছে, শত বছর পর যদি আপনার সাথে আমার আবার দেখা হয় তখন আমি হয়তো ২৫ টাকার বদলে ৫ লক্ষ টাকা চাইব আর আপনে আমাকে বলবেন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার দিব যাবেন? হয়তো আমি ও তখন বলব, না ভাই যাব না ৫ লক্ষ হলে যাব। যদিও আজ আপনাকে আমি ২৫ টাকায় নিয়ে যাচ্ছি তবে ৫ টাকা বেশি হয়ে যাচ্ছে। এটা তো খারাপ কাজ, এর কারনে আমি লজ্জিত, ক্ষমা করে দিয়েন।

Þ আদি: যেনে শুনে খারাপ কাজ করছো, আবার ক্ষমা চাচ্ছ?

Þ রিক্সা চালক: জানেন কেউ যদি খারাপ কাজ করে তবে সে মানুষ, আর সে যদি খারাপ কাজের জন্য লজ্জ্বা বোধ করে তবে সে মহামানুষ। কথাটা কিন্তু আমার না এটা বলেছেন লেখক হুমায়ূন আহম্মেদ।

আমি কিছুটা বিচলিত, যে এত জ্ঞানের অধিকারী সে রিক্সা চালায়? আমি তার সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে পড়লাম। কলেজের সামনে ও চলে আসলাম প্রায় কিন্তু কলেজে গেলে তার সম্পর্কে জানা হবে না তাই তাকে নিয়ে অক্সিজেন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম যদিও আমার কোন কাজ নেই সেখানে।

Þ আদি: আচ্ছা তুমি রিক্সা চালাচ্ছ কত দিন ধরে?

Þ রিক্সা চালক: আজ প্রথম,

Þ আদি: এর আগে কি করতে?

Þ রিক্সা চালক: আগে ছিলাম আমি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় যে পরিবার সে পরিবারের সদস্য,

Þ আদি: মানে ঠিক বুঝলাম না।

Þ রিক্সা চালক: মানে আমি ছিলাম বেকার পরিবারের সদস্য, যে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২ কোটি, দীর্ঘ ৫ মাস বেকার ছিলাম অনেক চেষ্টা করেছি একটা সরকারী কিংবা বেসরকারী চাকুরীর জন্য কিন্তু মেলেনি, বার বার সার্টিফিকেট ফটোকপি করতে করতে সার্টিফিকেট এর ও কালার বদলে গেছে, তাই ভাবলাম আর সার্টিফিকেট ফটোকপি না করে রেখে দিই না হয় পরে আমও যাবে ছালাও যাবে যদিও ইচ্ছা করছিল সার্টিফিকেট টি ছিঁড়ে ফেলি, যে সার্টিফিকেট একটি সামান্য চাকুরী দিতে না পারে সে সার্টিফিকেট রেখে কি করব?

Þ আদি: পড়ালেখা কতদুর পর্যন্ত পাড়ি দিলেন?

Þ রিক্সা চালক: ২০০৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস দিয়েছিলাম।

Þ আদি: বাড়ি কোথায়?

Þ রিক্সা চালক: যশোর,

Þ আদি: যশোর থেকে চট্টগ্রামে? কেন?

Þ রিক্সা চালক: চট্টগ্রাম বানিজ্যিক রাজধানী, শুনলাম শুধু চট্টগ্রাম থেকে ৫১% রাজস্ব আয় সরকারী কোষাগারে জমা হয়, তাই ছুটে আসা ভাল একটি চাকুরীর আশায়,

Þ আদি: হ্যাঁ, যা শুনেছ তা ঠিক আছে, আমরা ৫১% রাজস্ব আয় সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার পর ও সে পরিমানে সরকার আমাদের চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সে হারে বিনিয়োগ দেয় না, যাক আমি রাজা নই যে রাজতন্ত্র নিয়ে কথা বলব, নাগরিক হিসেবে যা বলার তা বললাম, যাক সে সব কথা..বাড়িতে কে কে আছে?

Þ রিক্সা চালক: ছোট ভাই,বোন, মা, বাবা । আজ জানতে পারলাম বাবা অসুস্থ কাল বাড়িতে যেতে হবে। হাতে টাকা ও নাই, তাই এক পরিচিত ব্যাক্তি হতে Þ রিক্সা নিয়ে বের হয়ে পড়লাম, তিনশত টাকার মত আছে রিক্সা চালিয়ে তিনশত টাকার মত হলে বাড়ি যাওয়া যাবে। বাড়ি থেকে আসার সময় ১২ হাজার টাকা এনেছিলাম, সব শেষ । বাড়ি থেকে টাকা পাঠাবে সেই অবস্থা ও নেই। আজ মাকে ফোন করে বললাম আমি একটা চাকুরী পেয়েছি সব সময় গাড়িতে আসা যাওয়া করি, মা শুনে অনেক খুশি হয়েছে, খুশি হয়ে অনেক দোয়া ও করেছে যাতে আমি ভাল ভাবে চাকুরীটা করতে পারি,

ততক্ষনে আমি অক্সিজেন পৌঁছে গেলাম। আবার ব্যাক যেতে বললাম, কিন্তু সে আর পারছেনা। ক্লান্ত প্রায়। সামান্য বিরতি নিতে চাইল। আমি ও তাকে সেটাই বলতে চেয়েছিলাম। কিছুক্ষন পর আবার আমাদের গল্প বলা শুরু করলাম।

Þ আদি: মাকে চাকুরীর খবরটা মিথ্যা বলেছ কেন?

Þ রিক্সা চালক: মাকে খুশি করার জন্য মিথ্যা বলছি এতে পাপ হলে হোক।

Þ আদি: তো হুমায়ূন আহম্মেদ এর লেখা পড় বুঝি?

Þ রিক্সা চালক: শুধু পড়ি বললে ভুল হবে। অনেক বেশি পড়ি। আপনি যেখানে বসে আছেন তার নিচে ১৯৭১ নামের তার একটা বই আছে, তার লেখা আমার খুব ভাল লাগে।

Þ আদি: তার কয়েকটা বইয়ের নাম বল তো দেখি।

Þ রিক্সা চালক: আজ হিমুর বিয়ে, এবং হিমু, আজ জরীর বিয়ে, চাঁদের আলোয় কয়েক জন যুবক, ১৯৭১, অচিনপুর, আমি মিসির আলী, অন্ধকারের গান, ভয়, আমার আছে জল…

Þ আদি: হয়েছে আর বলতে হবেনা, তুমি তো দেখছি একটা লাইব্রেরী।

Þ রিক্সা চালক: ভাই আপনার কলেজে চলে এসেছি, দয়াকরে আর কোথাও যেতে বলবেন না।

Þ আদি: কেন?

Þ রিক্সা চালক: ১:৩০ বেজে গেছে আমার একটা ইন্টারভিউ আছে,

Þ আদি: তোমার তো ইন্টারভিউ হয়ে গেছে,

Þ রিক্সা চালক: বুঝলাম না,

Þ আদি: বুঝার দরকার নেই, তোমার ফোন নাম্বার টা দাও,

Þ রিক্সা চালক: নিন ০১৮………..।

Þ আদি: ভাড়া কত দিতে হবে?

Þ রিক্সা চালক: ৮০ টাকা,

Þ আদি: নাও তোমার ৮০ টাকা, আর এই নাও তোমার চাকুরীর অ্যাডভান্স ৩,০০০ টাকা,

Þ রিক্সা চালক: চাকুরীর এডভান্স?

Þ আদি: হ্যাঁ, তুমি এই টাকা নিয়ে আজ-ই বাড়িতে চলে যাও এবং আগামী শনিবার তুমি চাকুরীতে যোগ দিবে, আর অবশ্যই আমার সাথে যোগাযোগ করবে, Þ তখন-ই বলবো কিসের চাকুরী।

তাকে বিদায় জানিয়ে আমি ক্লাসে চলে গেলাম।

তাকে বড় ভাই এর আমরা চাটগাঁবাসী প্রতিষ্ঠানে একটা পোস্ট এ নিয়োগ দিয়ে দিলাম। সে অনেক ভাল ভাবে এখন চাকুরী করছে। মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হই, বেশ রসিক একটা মানুষ, পরে শুনলাম কবিতা ও লেখে, আমার জন্য অনেক ভাল হল সঙ্গি হিসাবে একজন কবি পেলাম।

দীর্ঘ ৮/১০ দিন পর কলেজে গিয়েছিলাম এবং সুবর্ণলতার বিশাল অভিযোগ।

Þ সুবর্ণলতা: কি ব্যাপার তুই এত দিন কলেজে আসিস নি কেন? মোবাইল বন্ধ ছিল কেন? আমি কত দুশ্চিন্তায় ছিলাম তুই জানিস? কি হয়েছে বল?

আদি: আরে একসাথে এতগুলা প্রশ্ন করলে তো আমার উত্তর দেওয়া হবেনা। যাক আমাকে কেউ মিস করে তা এত দিনে বুঝতে পারলাম, একটা কবিতা শুনবি?

Þ সুবর্ণলতা: তোর কবিতা ? না শুনলে যে চরম মিস করব, তাড়াতাড়ি বল।

Þ আদি: আমি উপলব্ধি করেছি নি:সজ্ঞতা

উপলব্ধি করেছি তার শিরা-উপশিরা

এটি সাধারণ কোন বিষয় নয়

তবে মহা ব্যাধি ও কন্টকময়।

এটি প্রতি সেকেন্ড / মাইক্রোসেকেন্ড এ

দোযগের আগুনের ন্যায়

জ্বালায় নিজেকে।

নি:সজ্ঞতা এই মহাব্যাধি

বানিয়ে দেয় নিজেকে

মৃত্যের পথ যাত্রি,

ঠেলে দেয় অন্ধকারাছন্ন প্রকোষ্টে

যেখান থেকে আসা যায় না আলোর জগতে।

Þ সুবর্ণলতা: তাই বুঝি? এ শূন্যস্থানটি পূরণ করল কে?

Þ আদি: সে তো আমার পাশেই আছে,

Þ সুবর্ণলতা: হয়েছে, আর দিতে হবেনা, কেন আসিস নি বল?

Þ আদি: তেমন কিছু না। সামান্য জ্বর ছিল।

Þ সুবর্ণলতা: তো একবার ও ফোন করে বলার প্রয়োজনবোধ করলিনা?

Þ আদি: আসলে তা না, আমার মনে ছিলনা মোবাইল টা কোথায় রেখেছিলাম? সরি……..

Þ সুবর্ণলতা: Sorry বলেল কি সব শেষ? তোকে শাস্তি পেতে হবে।

Þ আদি: কি শাস্তি দিবি বল, আমি মাথা পেতে নিব,

Þ সুবর্ণলতা: তোর শাস্তি হল আজ আমাকে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে

Þ আদি: কোথায় নিয়ে যাব? তার চেয়ে বরং রিক্সায় করে ঘুরব চল……

Þ সুবর্ণলতা: তাহলে তো আরো ভালো হবে, চল….

কবিতাটি শুনানোর মানে হলো তার অনেক গুলো প্রশ্নের উত্তর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নেওয়া।

আবার ও রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম, আমাকে ডায়েরীটা বের করে দিল, এবং….

Þ সুবর্ণলতা: শোন, তুই কি জীবনানন্দ দাশকে অনুসরণ করিস?

আদি: না তো কেন?

Þ সুবর্ণলতা: তোর সব কবিতা তো তার মত, নিজেকে শূন্য মনে করে সব কবিতা লেখা,

আদি: আসলে আমরা সবাই এই মহাশূন্যে শূন্য, তবে জীবনানন্দ দাশ তো শুধু নিজেকে শূন্য মনে করে কবিতা লিখেনি, তিনি তো বনলতা সেন কে নিয়ে ও কবিতা লিখেছেন।

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীতের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূরে অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রান এক, চারদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

Þ সুবর্ণলতা: আসলেই, কোন দিন তো ভেবে দেখিনি,

Þ আদি: একজন কবি যদি এ কথা বলে তা কি মেনে নেওয়া যায়?

Þ সুবর্ণলতা: আমি কি বলেছি আমি কবি? অবসর সমেয়ে অবসরটুকু কাটানো ছাড়া আর কিছু নয়, আচ্ছা তোর মনে কি কোন বিরহ কাজ করে?

Þ আদি: বিরহ ছাড়া কি মানুষ আছে? বিরহ নিয়ে তো জীবন, প্রতিটি মানুষের তো বিরহ আছে, কেউ না পেয়ে বিরহ আবার কেউ পেয়ে বিরহ, আবার কেউ বা হারিয়ে বিরহ, এই তিনটি ছাড়া কি তোর জীবনকে ভাবতে পারবি? এই তিনের মধ্যেই তো জীবন,

Þ সুবর্ণলতা: আমি যে বিরহের কথা বলছি সেটি হল প্রেম বিচ্ছেদি বিরহ,

Þ আদি: ও তাই বল, না তেমন কোন বিরহের মাঝে আমি নেই, কখনো আসবেও না, আমি প্রেমের বিপক্ষে, আমার একটি কবিতায় আমি লিখেছি…

প্রেম মানে সূচালো তীর

কিংবা জুলফিকার

যার প্রধান কাজ মানব প্রান আহার

Þ সুবর্ণলতা: কবিতাটি আমি পড়েছি।

Þ আদি: যদি পড়ে থাকিস তাহলে প্রশ্ন করলি কেন?

Þ সুবর্ণলতা: কৌতহল ছিল তাই,

এক ঘন্টা যাবৎ রিক্সায় চড়ে আবার ফিরে আসলাম কলেজে, বন্ধুরা দেখে নানান কমেন্টস, সবই শুনতে হল মাথা নত করে, আমি একটাই কথা বললাম যে “সে আমার ভাল বন্ধু, আর কিছু নয়”

তারপর থেকে মুঠো ফোনে আলাপ ও ক্লাসে আড্ডা, সব মিলিয়ে ফেবিকলের মত জোড়া যা ভাঙ্গবে না মচকাবেও না এমন পরিস্থিতি। দীর্ঘ ২ বছর বয়স কমে গেল, মানে জীবনের ২টি বছর অতিবাহিত করলাম অবিশ্বাস্য বন্ধনে, তার সাথে বেশ কয়েকটা পর্যটন এলাকা ও ঘুরে দেখা হল। ৪র্থ পর্ব সমাপনী পরীক্ষা সামনে, বেশ কয়দিন দেখা হবেনা। ভাবছিলাম তাকে বলব কোথাও বেড়াতে যেতে। তা বলার আগেই মোবাইলে রিং টোন বেজে উঠল।

Þ সুবর্ণলতা: হ্যালো…..

Þ আদি: হ্যাঁ পেত্নী বল।

Þ সুবর্ণলতা: মানে?

পেত্নী বলাতে সে অনেকটা গম্ভীর হয়ে গেল এবং বেশ করুন কয়েকটা কথাও বলল যা আমার শুনতে অনেক খারাপ লেগেছে, তবে নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয়েছে। এক সময় ফোনটা রেখে ও দিল। আমি আবার কল ব্যাক করে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে অপরাধী হতে মুক্ত করতে চাইলাম…

Þ আদি: আমাকে ক্ষমা করে দাও,

Þ সুবর্ণলতা: খুব সহজে তো ক্ষমা চাওয়া শিখেছিস,

Þ আদি: আচ্ছা কি বলতে চাইছিস বল,

Þ সুবর্ণলতা: চলনা কোথাও হতে ঘুরে আসি, অনেক দিন তো দেখা হবেনা।

পৃথিবীতে জম্ম নিয়েছি পৃথিবীটাকে দেখব বলে। কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন …

“থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে

দেখব এবার জগৎটাকে

কেমন করে ঘুরছে মানুষ

যুগান্তরের ঘূর্নিপাকে।”

Þ আদি: তবে আসা, যাওয়া ও খাওয়ার শুভেচ্ছা ফি টা তোর, আমি শুধু তোর পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করব যাতে কেউ তোকে নিয়ে যেতে না পারে,

Þ সুবর্ণলতা: তুই শুধু পাশে থাকলেই হবে, শুধু আজকের জন্য নয় সারা জীবন পর্যন্ত, পারবি?

কথায় আছে…

“একবার না পারিলে দেখ শতবার

Þ আদি: এ নিয়ে তুই কোন চিন্তা করিস না, আমি তো আছি নিরলজ্জ্ব প্রান এক, যতই দূরে ঠেলে দিবি ততই আমি তোর কাছে পাশ ঘেঁশে বসব, শত চেষ্টা করেও পারবি না পাশ থেকে সরাতে,

Þ সুবর্ণলতা: আমি!! আমি তোকে দূরে ঠেলে দিব? বরং বল তুই আমাকে ভুলে যাবি,

Þ আদি: আমার অভিধানে কিংবা স্বংবিধানের মধ্যে ভুলে যাওয়া শব্দটা নেই, আমি ভুলার পাত্র নই, যাকে একবার কাছে টানি তাকে সহজে ভুলি না, যতই কালবৈশাখী ঝড় আসুক,

Þ সুবর্ণলতা: দেখা যাবে কালবশৈাখী ঝড়ে ভুলে যাবি নাকি সামান্য বৃষ্টিতে পথ হারিয়ে ফেলবি।

বেশ কয়েকটা ছবি ও তুলেছিলাম মুরব্বীর সাথে। সে এত খুশি হয়েছে যে তাতেই সে যেন হিমালয় পর্বত জয় করেছে। বিচ এর পাথরে বসে বসে গল্পে মেতেছিলাম প্রায় ২ ঘন্টা। অনেক খাওয়া দাওয়া ও হয়েছিল। সে আমার হাত ধরে হাঁটতে লাগল। আমি অনেকটা লজ্জ্বা বোধ করছিলাম। তাছাড়া তার সাথে আমার মানায় না। সে আমার চেয়ে লম্বা। নিজের কাছে নিজেকে অনেক হাস্যকর মনে হচ্ছিল।

সেদিন রাতে তাকে শুভ রাত্রি জানাতে ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু সে Waiting ছিল, হয়তো মোবাইলে কারো সাথে কথা বলছিল, তাকে আমি আর ফোন দেইনি পরে সে আমাকে রিং ব্যাক করল।

Þ আদি: কিরে তুই এত ব্যস্ত ছিলি কেন? লাভার এর সাথে কথা বলছিস মনে হয়?

Þ সুবর্ণলতা: আরে না মেহেদী, আমার আরেক বন্ধু,

Þ আদি: ও তাই? যদি লাভ কেইজ হয় তাহলে কিন্তু পস্তাবি?

Þ সুবর্ণলতা: কেন?

Þ আদি: এক জরিপে দেখা গেছে ৯৮% লোক প্রথম ভালবাসার মানুষকে পায় না আর বাকি ২% মানুষ কখনো কাউকে ভালবাসেনি যাকে হারাতে হবে, তবে পস্তাবি বললে ভুল হবে কারন এটি তোর প্রথম ভালবাসা না ও হতে পারে,

Þ সুবর্ণলতা: কী? আসলে তেমন কিছুনা শুধুই বন্ধু যার স্থান তোর পরে।

Þ আদি: আমি মানতে পারলাম না, যদি আমার স্থান সবার উপরে হত তাহলে আমার কল টা রিসিভ করতি,

Þ সুবর্ণলতা: রিসিভ করার সময় দিয়েছিস? বিজলি চমকানোর মত চমকিয়ে চলে গেলি,

Þ আদি: কেউ ব্যস্ত থাকা অবস্থায় বার বার রিং দেওয়াটা আমি পছন্দ করি না,

Þ সুবর্ণলতা: জানিস তোর মত একটা বন্ধু পেয়ে আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি,

Þ আদি: আমি তোর কেমন বন্ধু ঠিক জানি না, তবে আমার কাছে বন্ধু মানে কবির ৪টি লাইনের মত……..

“আমার কাছে বন্ধু মানে এমন একজন কেউ,

যে তীব্র তাপে মরুর মাঝে শীতল জলের ঢেউ

যে তীব্র তাপে মরুর মাঝে শীতল জলের ঢেঁউ।

বন্ধু তুমি পেলে ব্যাথা কথা কিংবা কাজে,

কষ্ট কভু রেখো নাকো তোমার বুকের মাঝে”

তবুও জানি না আমি তোর বন্ধুত্বের আসন কতটুকু পূরণ করতে পারছি,

Þ সুবর্ণলতা: তুই শত ভাগ-ই পূরণ করছিস, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ,

Þ আদি: বন্ধুর কাছে কোন প্রকার কৃতজ্ঞ প্রকাশ করতে পারে না অন্য কোন সম্পর্ক ছাড়া,

Þ সুবর্ণলতা: এই সব বাদ দেতো, এখন রাখব, পরে কথা হবে,

Þ আদি: শুভরাত্রি।

তবে আমার সাথে তার অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। আমরা একেবারে ২ প্রান্তের ২ জীব। আমার পছন্দ কালো আর ও সাদা, আমি খেতে ভাল লাগে ডিম আর ও নুডুস, আমার পছন্দ নরমাল পোষাক আর ও ডিজিটাল, আমার ভাল লাগে কলেজের ড্রেসের উপর এফ্রন পড়া আর ও ভিন্ন রঙ্গের পোশাক, আমি হিন্দী চ্যানেল এর বিপক্ষে আর ও হিন্দী চ্যানেল এর ঝুঁড়ি, এ কয়েকটা বিষয় নিয়ে বেশ রাগা রাগি হয়, কতবার যে বন্ধুত্ব ব্রেক আপ হয়েছে তার কোন হিসাব নাই। হিসাব রাখলে হয়ত পুরান আমলে যে বালাম খাতা ব্যবহার করা হত তার ন্যায় কয়েকটা শেষ হয়ে নতুন আরেকটাতে আবার লিখা শুরু হত।

রাত ২ টা পর্যন্ত ওয়েভ ডিজাইনিং এর কাজ করলাম, চোখের দুটি পাতা আর নিষেধ মানছে না। নিজে নিজ মন্ত্রে পাপড়ি দুটি বন্ধের জন্য যুদ্ধ করছে আমার সাথে, তাই তাকে আর বাঁধা প্রদান করিনি, সবে চোখ বন্ধ করলাম আবার কখন যে সকাল হয়ে গেল বুঝার শক্তি নেয়, সূর্য মামা অনেক আগে তার আলো ভূপৃষ্টে ঢেলে দিয়েছে কিন্তু চোখের পাতা কোন ভাবে খুলতে পারছি না, আর কি করার আছে আমি যেমন মানুষ, আমার যেমন স্বাদ-আহ্লাদ আছে তেমনি তার ও আছে, তাই তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি, সে তার মত চলুক। অবশেষে সে তার চুক্ষু বন্ধনী খুলেছে যখন সূর্য মামা রাগ করে তার সকল শক্তি পৃথিবীর উপর ঢালা শুরু করেছিল। মুঠো ফোনের পর্দায় দেখি ২২টি অপেক্ষারত কল, কে আর এই অধমকে এত মিস করবে সুবর্ণলতা ছাড়া? ঘুমের আলস কাটার আগেই তাকে কল ব্যাক করলাম……

Þ আদি: হ্যাঁ, বল

Þ সুবর্ণলতা: কি বলব? কিছু বলার নেই,

Þ আদি: বলার যদি কিছু না থাকে তবে ফোন করলি কেন?

Þ সুবর্ণলতা: আমার ভুল হয়ে গেছে,

জানি সে অনেক রেগে আছে, দু:খিত বলা ছাড়া আমার তেমন কিছু ছিলনা।

Þ আদি: ভাই আমি দু:খিত, রাত জেগে কাজ করেছি তাই একটু দেরি হয়ে গেছে, তুই কি করছিস?

Þ সুবর্ণলতা: আমি গাড়িতে,

Þ আদি: কোথায় যাচ্ছিস?

Þ সুবর্ণলতা: তোর কাছে, প্রচুর দেখতে ইচ্ছে করছে,

Þ আদি: এ সব ছেড়ে দে তো, কোথায় যাচ্ছিস তা বল,

Þ সুবর্ণলতা: আচ্ছা, দরজাটা খোল,

দরজা খুলতে একগুচ্ছ ফুলের তোড়া ছাড়া আর কিছু দেখতে পায়নি, পরক্ষনে মাধুরী মেশানো একটি কন্ঠে ভেসে আসতে লাগল Happy birthday to you” আমার জম্মদিন কিন্তু আমার জানা ছিলনা। তার ফুলের তোড়ার সাথে তাকেও গ্রহন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আমার ভিতরের মানুষটি, কিন্তু তাকে ১৪৪ দ্বারা জারি করে তার ইচ্ছাটার মৃত্যু দিয়েছি। তার পোশাকাদি-ই আমার ভেতরের ঘুমন্ত মানুষটাকে বাধ্য করেছিল। শত নিষেধে আমি তার পোষাকাদির কোন পরিবর্তন লক্ষ করিনি। ভাগ্যিস ভাল যে আমি ছাড়া ঘরের কোন সদস্য ছিলনা, না হয় আমাকে হয়ত আজ নির্বাসনে যেতে হত, শুনতে হত কিছু অকাট্ট কথা।

Þ আদি: তুই আমার বাড়িতে এসেছিস এই পোশাকে

Þ সুবর্ণলতা : দেখ এত পোশাক পোশাক করবি না, আমার ব্যাক্তিত্ব বলে কিছু আছে,

Þ আদি: তা তো থাকবে, ব্যাক্তি ছাড়া কি মানুষ হয় নাকি? তবে তার ব্যাক্তিত্বটা হতে হবে সবার বোধগম্য, তুই এখন আমার বাসায় এসেছিস তাই বলে কি আমার ব্যাক্তিত্বটাকে বিসর্জন দিতে হবে? বলি তোর পোশাকাদির পরিবর্তন কর, তোদের নিয়ে কোরআন মাজিদে সূরা নূর, সূরা নিসা, সূরা আযাব নামে তিনটি সূরা নাজিল করেছে। সূরা নূর এর ৩১ তম আয়াতে বলা হয়েছে…

“ ঈমানদার নারীদেরকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে তারা যেন যা সাধারনত: প্রকাশমান তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতাপুত্র, ভগ্নি পুত্র, স্ত্রীলোক অধিকার ভুক্ত বাদী, যৌন কামনা মুক্ত পুরুষ, ও বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যাতিত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে”,

Þ সুবর্ণলতা: তুই আমাকে অপমান করার জন্য প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলি অপমান করেছিস, যা তোর মনের কামনা পূরণ হয়েছে, ঠিক আছে তুই থাক আমি গেলাম….

Þ আদি: আরে আরে কোথায় যাচ্ছিস, আসলে দোষ তোদের না, দোষ তাদের যারা নতুন সংবিধান তৈরী করেছে, আসলে বলতে কি তোরা যে সংবিধান নিয়ে চলছিস সেটা সংবিধান না, সেটা হল স্ববিধান, কিন্তু কুরআন মাজিদ-ই হল প্রকৃত সংবিধান।

Þ সুবর্ণলতা: তুই কি আমার সাথে ঝগড়া-ই করবি?

Þ আদি: ঝগড়া না শুধু একটু জানিয়ে দিলাম, আচ্ছা ছেড়ে দিলাম, চল তোর জন্য নাস্তা তৈরী করব,

Þ সুবর্ণলতা: থাক থাক গরু মেরে জুতা দান করতে হবে না,

Þ আদি: ক্ষমা করে দে, আর এমন হবে না,

Þ সুবর্ণলতা: এই নিয়ে কত বার ক্ষমা চেয়েছিস বলতে পারবি? নির্লজ্জ একটা,

তবে এখন তার অনেক পরিবর্তন ঘঠেছে, আগের মত বিদেশি মেম সে সাজেনা, ছেড়ে দিয়েছে আধুনিক যুগের পোশাকাদি, যাকে আমরা অর্ধ উলঙ্গ পোশাক বলে জানি। ভাল করে রপ্ত করেছে সেই তিনটি সূরা, যা আমি তার কাছ থেকে চেয়েছিলাম। নাস্তা পর্ব শেষ, এবার বিদায়ের পালা।

Þ সুবর্ণলতা: এবার উঠতে হবে, সূর্য মামা তো প্রায় ডুবি ডুবি, আজ যাই তাহলে,

Þ আদি:

চলে যাবে যদি পাখি,

তবে কেন এসেছিলে এই অধমের ঘরে-

ডানা ঝাপটায় ক্ষনিকের জন্য আনন্দ দিতে?

আমার বহু মাত্রিক জীবনে

তুমি একটি মাত্রা,

আমার কঠিন অস্তিত্বের পথে

তোমার সাবলিল যাত্রা,

গোচরে পুলক অনুভব করি।

কবির সাদা-কালো জীবনে

তমি লাল-নীল-বেগুনী-হলুদে মিশেল,

আপ্লুত হই,

ঝরতে দেখে তোমার-

নিষ্পাপ হাসি-কথার ফুল ঝুড়ি

Þ সুবর্ণলতা: আহারে কবি, হঠাৎ কবিতা ও বানিয়ে ফেললি?

Þ আদি: কবি মানুষ কে কখনও বিয়ে করবি না, তারা নিজ রিক্সায় স্ত্রীকে পাশে রেখে অন্য মেয়েদের কে নিয়ে কবিতা লিখে, তখন কিন্তু সহ্য করতে পারবিনা, অগুচরে চোখের জল ফেলতে হবে,

Þ সুবর্ণলতা: না, কবি হয়ে আরকে জনকে কেন বিয়ে করব? কবি কেই বিয়ে করব ভাবছি, তোর কবিতা অনুসারে তো কেউ আসলে আর তাকে যেতে দিচ্ছে না, তবে আজ যাই আর কাল যাই, একদিন না একদিন তো যেতে হবে তাই না?

Þ আদি: না, আমি মানতে পারছি না, আমি আদালতে বিচার দিব,

Þ সুবর্ণলতা: আদালত চলে কিছু প্রটোকলের সাথে সেখানে কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা তা দেখে বিচারের রায় দেয় না, হয়তো আমি ও জয় হতে পারি,

Þ আদি: হয়েছে যাও, পরিবারের কর্তা আসার সময় হয়ে গেছে।

Þ সুবর্ণলতা: যাব, তবে তোর সথে কিছু কথা আছে,

Þ আদি: বল, বলে শিঘ্রী বিদায় হও,

Þ সুবর্ণলতা: নাহ্ থাক, মোবাইলে বলব,

Þ আদি: খবরের শিরোনাম টা বললে বিস্তারিত ও বলতে হয়, কারণ এখন বিকাল ৩ টা নয় ২ টা, এ সময়ের খবরে বিস্তারিত আলোচনা করে, সংক্ষেপে বিস্তারিত বল,

Þ সুবর্ণলতা: সংক্ষেপে বিস্তারিত বলতে পারব না, বললে বিস্তারিত-ই বলব,

Þ আদি: থাক বলতে হবে না, মোবাইলে বলিস,

দুপুরের খাওয়াটা তো গেলই, বিদায় জানিয়ে হালকা নাস্তা সেরে আবার বসে পড়লাম কম্পিউটারের সামনে বাকি কাজটা শেষ করার আশায়। রাত ৯টায় সে ফোন করল।

Þ সুবর্ণলতা: তুই সম্পর্কের কথা বলেছিলি…… ঠিক বলছিস। আচ্ছা আমরা কি আমাদের সম্পর্কটাকে আরো গভীর করতে পারি না?

Þ আদি: হুম। পারা যায়, যতটুকু তুই চাইবি, যদি বলিস ছেড়াদ্বীপ হতে বাংলাবাঞ্চা কিংবা যদি বলিস বাংলাদেশ হতে ডিম্বাকার পুরো বিশ্ব, আমি প্রস্তুত সব রকম উপাদান নিয়ে,

Þ সুবর্ণলতা: তুই শুধুই মজা করিস, এই মজা করাটাই একদিন তোর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে, তখন কোন কূল কিনার খুঁজে ও পাবিনা, শুধু ভাবতে ভাবতে চোখের পানি বুক বেয়ে সাগরে গিয়ে মিলবে,

Þ আদি: আচ্ছা তুই কি রকম বর্ধিত করতে চাস বল,

Þ সুবর্ণলতা: আমরা কি পারি না যুগল বন্ধি হয়ে একই মন্ত্রে চলতে, আমরা কি পারিনা যুগলবন্ধি হয়ে বন্ধনের শীর্ষ চূড়ায় আরহন করতে??

আদি: স্যার হুমায়ূন আহম্মেদ বলেছেন……

“ভদ্র ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে প্রেম জাগেনা, যাহা যাগে তাহা শুধুই সহানুভূতি ও করুনা”

আমার জন্য কি সত্যি তোর মনে প্রেম জম্মেছে নাকি করুণা? যা জম্মাক তবে তা ঠিক হয়নি। দেখ কোন কিছুকে আঁকড়ে ধর ঠিক আছে, যদি শক্ত বাঁধনে আঁকরে ধরিস তাহলে সে বাঁধনটা তাড়াতাড়ি ছিঁড়ে যায়, আর তুই যে বন্ধনের কথা বলছিস সেটি একটি অভিশপ্ত বন্ধন। সিনেমায় কিংবা নাটকে অনেক বার স্ক্রিপ্ট বদলানো যায়, কিন্তু যে বন্ধনের কথা বলছিস তা একবার ভুল হলে আর কাটা ছেঁড়া করা যায় না, সারা জীবন সেই আভিশাপে নিজে জ্বলতে হয় এবং অন্যকে জ্বালায়, আর আমি চাইনা নিজের জীবনটাকে নিয়ে জেনে শুনে জুয়া খেলতে, তুই যা পাওয়ার জন্য আগ্রহী তা সৃষ্টি হয় র্দীঘ একটি রিলেশনের ফলে।

Þ সুবর্ণলতা: দেখ মানুষ মনে করে ভালবাসাটা দীর্ঘ একটি রিলেশনের পর দুজন দুজনকে বুঝার মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু আমার মতে ভালবাসা হঠাৎ করে হয় যখন দুজন দুজনকে অনুভব করে। আমি যাকে ভালবাসব তার জন্য রিলেশন লং করার দরকার কি? আমার কাছে লোকটাই যথেষ্ঠ যার মাঝে ডুব দিয়ে মরতে ইচ্ছে করে, আমি যদি বলি সে লোকটা তুই!!

Þ আদি: দেখ আমি তোকে আবার বলছি জীবন কোন নাটক বা সিনেমা নয়, নাটক কিংবা সিনেমা অনেকটা জীবনের মত। একে তুই বিশ্বাস করে তোর জীবন গড়া কিংবা চালাতে পারবি না।

Þ সুবর্ণলতা: এটাই তোর শেষ কথা?

আমার নিরবতা দেখে সে ফোন রেখে দিল।

আমার জানা মতে……

“প্রেম হল সূচালো তীর

কিংবা জুলফিকার ,

যার প্রধান কাজ মানব প্রান আহার”

এ কথাগুলো আমি কোন অভিজ্ঞতা থেকে বলছি না, সব পারপার্শিক ঘটনা থেকে জানা। ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায় লাইলি-মজনু, সিরি-ফরহাদ কিংবা দেবদাশ-রজকিনি এদের অকৃত্তিম ভালবাসা থাকা সত্বেও তারা কেউ কাউকে পায়নি। যা না পাওয়া যায় তাকে কেন নিজের সাথে জড়াবো। কেন অযথা এত ভারী বোঝা বয়ে চলব?

তবে ওসর্কাড ওয়ার্লড বলেছেন…….

“কোন নারীর সাথে কখনো বন্ধুত্ব সম্ভব নয়; ক্রোধ,হিংসা এবং ভালবাসা সম্ভব।”

তাই আমি ওসর্কাড ওয়ার্লড এর সুত্র ধরে চলার সিদ্ধান্ত নিলাম শুধু মাত্র আমাদের সৃষ্ট বন্ধুত্বটাকে বিনিষ্ট না করার জন্য। অল্প কিছুক্ষন পর আমি আবার ফোন দিলাম। বেশ কয়েকবার কেটে দেওয়ার পর অবশেষে অশ্রু মিশ্রিত একটি কন্ঠ স্বর শুনতে পেলাম।

Þ আদি: তুমি কান্না করছ? স্যার হুমায়ূন আহম্মেদ বলেছেন….

“চোখের জল কঠিন জীবানু বিধংসী। ভিটামিন-ই, এন্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।

যে ভাইরাসকে কোন কিছু কাবু করতে পারেনা। সে সমস্ত ভাইরাসের ক্ষেতে চোখের জল-ই কার্যকর।”

এত মুল্যবান চেখের জনের অপচয় কেন করছ? এগুলো রেখে দাও কাজে লাগবে।

Þ সুবর্ণলতা: এ কথা বলার জন্য তুই ফোন করছিস?

Þ আদি: শোন সুবর্ণলতা ওসর্কাড ওয়ার্লড এর মতে “কোন নারীর সাথে কখনো বন্ধুত্ব সম্ভব নয়;ক্রোধ,হিংসা এবং ভালবাসা সম্ভব।” এ কথাটাকে বিশ্বাস করলাম।

Þ সুবর্ণলতা: তাহলে তুই……..

Þ আদি: তাহলে কি আমি ঠিক জানিনা। ইতিহাসের সকল ভালবাসার কোন মিল হয়নি। তারা কিন্তু পারেনি যোগলবন্ধি হয়ে শেষ পর্যন্ত থাকতে।

Þ সুবর্ণলতা: আমি পারব সকল অসাধ্যকে সাধ্য করে। আমি যুগলতার সফলতাটি দেখাব তোকে। আমাদের যুগলতার আজ থেকেই শুরু।

Þ আদি: আজ থেকে নয়, আমাকে সময় দাও…

By | 2018-07-13T14:44:39+00:00 July 13th, 2018|ছোট গল্প|1 Comment

About the Author:

One Comment

  1. ibrahim ali July 13, 2018 at 5:50 pm - Reply

    অভিনন্দন

Leave A Comment

error: Content is protected !!