মগজ – প্রিন্স হাসান

Home/ছোট গল্প/মগজ – প্রিন্স হাসান

মগজ – প্রিন্স হাসান

মুরগির মাথাটা চিবুতে চিবুতে রসু মিয়ার মনে হলো মানুষের মগজের স্বাদ নিশ্চয়ই আরো দারুণ হবে। ভাবতে ভাবতে বৌয়ের মাথাটা চোখে পড়লো তার।সামনেই বৌ খাচ্ছে, তার বেণী পাকানো চুলগুলো নড়ছে তালেতালে। দুই বেণীর দু’প্রান্তে দুটো রক্তজবা। রক্তজবা দেখেই তার মনেহলো রক্তের রং লাল।

রাত প্রায় দুটো বাজতে চললো। কোন এক অজানা কারণে রসু মিয়ার চোখে আজ ঘুম নেই। বারান্দায় কিছুক্ষণ পায়চারি করে আবার রুমে ঢুকলো সে। সিগারেট শেষ। মাঝরাতে সিগ্রেট ফুরিয়ে গেলে আর মেজাজ ঠিক থাকেনা।

এমন সময়ে মোবাইলে বিপ টোন বেজে উঠলো। না তার ফোনে নয়। কৌতুহলবশত বালিশের পাশ থেকে ফোনটা তুলে নিলো সে। বৌটা তখনও নাক ঢেকে ঘুমুচ্ছে। একটা টেক্সট এসেছে— “কাল কিন্তু অনেক্ষণ থাকতে হবে বেবী, বাসায় ম্যানেজ করে এসো”।

নাম্বারটা কার? ওর অফিসের কারো? মনে বনে নিজেকে প্রশ্ন করে সে। নিজের ফোনে ডায়াল করে দেখলো এটা তার বন্ধু সুতিশের নম্বর। সুতিশ, পূরবীর এই চাকরিটার জন্য সুপারিশ করেছিল অফিস কতৃপক্ষের কাছে। বেশ লম্বা হাত তার,একদম উপর মহল পর্যন্ত নখদর্পণে ছিলো। যার কারণেই এই মোটা বেতনের চাকরিটা পেয়ে যায় পূরবী। ওর চাকরিটা অবশ্য দরকারও ছিলো এই মুহূর্তে। বাসায় সুতিশের যাওয়া আসা নিয়ে কখনোই কোন সন্দেহ জাগেনি রসু মিয়ার মনে। যেহেতু বন্ধু ছিলো, আসতেই পারে, আসবেই তো!

পুরনো কনভারসেশনে কিছু নেই। কল লগে দেখা গেল পুরনো মেসেজগুলোর হিস্ট্রি। সবগুলোই মুছে ফেলা হয়েছে ইনবক্স থেকে। বোকা মেয়েটা লগ থেকে ডিলিট করতে ভুলে গেছে।

২।

চুপচাপ রান্নাঘর থেকে ছুরিটা পকেটে পুরে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো রসু মিয়া। রাত প্রায় নয়টা বাজতে চললো, পূরবী এখনো ফেরেনি। ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে কলিগের মেয়ের বার্থডে পার্টিতে যাচ্ছে, ফিরতে দেরী হবে।

রসু মিয়া বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে হাঁটছে। কিছুটা উদভ্রান্তের মত তার পদক্ষেপ।

৩।

আজ পূরবীকে বেশ খুশি লাগছে। রসু মিয়ার মুখেও তৃপ্তির হাসি। বাসায় ঢুকে বৌকে জড়িয়ে চুমু খেয়ে হাতে বাজারের ব্যাগ তুলে দিলো রসু মিয়া— “শোনো বৌ, মগজটা ভালোমতো ভুনা করবা আর বাসমতি চালের ভাত রান্না কইরো সাথে।খাসির মগজ দিয়ে খাসিয়ে খাওয়া যাবে।
দুই কেজি বাসমতি চালও নিয়ে এসেছে সে। বৌয়ের চোখে কিছুটা বিষ্ময়, রসু মিয়া সুগন্ধি চালের ভাত পছন্দ করতোনা। কখনো খেতে দেখেনি তাকে।

রসু মিয়া টিভি দেখছে আর সিগ্রেট ফুঁকছে। একটু পরপর রান্নাঘরের খোঁজখবর নিচ্ছে, বৌ একা সামলাতে পারছে কিনা।

৪।

বেশ আরাম করেই রাতের খাওয়া হয়েছে দুজনের। বৌকে সে আদর করে মগজভুনা অর্ধেকেরও বেশিটা খাইয়েছে। পূরবী গড়গড় করে নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে। রসু মিয়ার চোখে ঘুম নেই। কানে শুধু বিপ টোন বেজেঁই চলছে একটানা।

বাতি জ্বালাতেই বৌয়ের বুকে চোখ আটকে গেল রসু মিয়ার। দিন দিন সে আরো সুন্দরী হয়ে উঠছে।তার বুক আরো পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যেন, শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে স্তনদুটো ওঠানামা করছে। নিরাবরণ পেট চোখে পড়তেই চোখদুটো ঘৃণায় চকচক করে উঠলো তার।

৫।

রান্নাঘরে রসু মিয়া নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো। মানুষের মগজ রান্নার কোন রেসিপিই গাইড বইটিতে সে খুঁজে পেলনা এমনকি গুগোল সার্চ করেও কিছু পাওয়া গেলনা।

হাড়িতে পড়ে আছে একটি আস্ত মগজ। “সকালের নাস্তাটা দারুণ হবে তাহলে!” যেন সে মনে মনেই বলে উঠলো। রাত পোহানোর আগেই রান্নাটা সেরে ফেলা দরকার। অগত্যা তাকে “ভেড়ার মগজ ভুনার রেসিপি” ফলো করতে হলো।

৬।

খাবার টেবিলে ভীষণ একাকী লাগছে রসু মিয়ার। ভুনা মগজ আর রুটি হাতে অপেক্ষা করছে বৌয়ের।

By | 2018-05-30T16:36:16+00:00 May 30th, 2018|ছোট গল্প|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

error: Content is protected !!