ভালোবাসা ভালোবাসা – আফছানা খানম অথৈ

Home/ছোট গল্প/ভালোবাসা ভালোবাসা – আফছানা খানম অথৈ

ভালোবাসা ভালোবাসা – আফছানা খানম অথৈ

রুমা অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে।ছোট বেলায় মা মারা যান।তারপর বাবাই তার সব কিছু।বাবা আলম চৌধুরী বড় বিজনেসম্যান।তিনি দেশ বিদেশে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন অলটাইম।মেয়ের টেক কেয়ার ঠিকমত করতে পারেন না।রুমার টেক কেয়ার কাজের লোকেরা করে থাকে।বাবা যখন বাসায় ফিরেন রুমা তখন ঘুমিয়ে…
তাই বাবা মেয়ের মাঝে তেমন একটা দেখা হয় না।কি বিচিত্র এই দুনিয়া!কেউ দৌড়ায় টাকার পিছে, কেউ ভালোবাসা….
বাবার প্রতি রুমার প্রচণ্ড রাগ হয়।মায়ের ভালোবাসা কি তা বুঝে উঠার পূর্বে তিনি পরপারে চলে গেলেন।কিন্তু তাই বলে কি বাবা একটু ও মেয়েকে সময় দিতে পারেন না।শুধু টাকা আর টাকা।
টাকা কি মানুষের জীবনে সব! না টাকার বাইরে ও অন্য কিছু।
রুমা একা একা খুব বোর ফিল করছে। অভিমান ভরা মনে গাড়ি চালিয়ে কলেজে রওয়ানা করলো।কিছুদূর রানিং’র পর এক হ্যান্ডসাম যুবক তার গাড়ির সঙ্গে একসিডেন্ট করলো। সে তাকে হসপিটালে নিয়ে গেল।প্রচুর রক্তক্ষণ হলো। ডাক্তার আরলি রক্ত যোগাড় করার জন্য তাকে বলল।ভাগ্যিস তার গ্রুপের সাথে মিলে গেল। যাক আল্লাহ পাক তাকে সারিয়ে তুলল। রুমা হসপিটালের বিল পরিশোধ করে বাসায় ফিরে গেল।ছেলেটির নাম রানা,তার জ্ঞান ফিরার পর সে ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞেস করলো,
স্যার আমি এখানে এলাম কি করে? তাছাড়া আমি এ্যাকসিডেন্ড হলাম কি করে?
কি আশ্চার্য আপনার কিছুই মনে নেই? জ্বী না ।
তারপর ডাক্তার একসিডেন্ট হওয়ার কাহিনীটা তাকে বলল।রানা জানতে চাইল,
তা বুঝলাম, কিন্তু আমাকে এখানে নিয়ে এলো কে?
আপনার কাজিন রুমা, তার শরীরের রক্ত দিয়ে সে আপনাকে বাঁচিয়েছে।শুধু তাই নয়, বিল পরিশোধ।
সে আপনার জন্য অনেক কষ্ট করেছে।আপনি খুব লাকি। এমন একটা কাজিনকে বেষ্ট ফ্রেন্ড হিসেবে পেয়েছেন।
সে এখন কোথায়?
ওয়েটিং রুমে। যান তাড়াতাড়ি।
রানার কোন কাজিন নেই। সে ঢাকা শহরে একা থাকে। কিন্তু এ কাজিন এলো কোত্থেকে? সে এসব ভাবতে ভাবতে ওয়েটিং রুমে….।
কিন্তু সে কি! রুমা নেই।রানা এদিক সেদিক তাকাল, কোথাও রুমাকে পেল না।তারপর ছুটে গেল ব্লাড কক্ষে। ম্যানেজারের কাছ থেকে কোন রকমে তার নাম ও মোবাইল নাম্বারটা সংগ্রহ করলো।
তারপর কল দিলো। অপর প্রান্ত থেকে আওয়াজ আসল।এখন সংযোগ দেয়া সম্ভব না একটু পরে ডায়াল করুন।রানা কিন্তু থেমে নেই কল দিয়ে চলেছে।বার বার একই উত্তর, মানে ফোন বন্ধ।
এদিকে রুমা রানার টেক কেয়ার করতে গিয়ে খুব ক্লান্ত।
তাই মুঠোফোন চার্জে দিয়ে শুয়ে পড়েছে।বার বার ছেলেটার কথা কেন জানি মনে পড়ছে।কিছুতেই তার স্মৃতিটা হৃদয়ের আঙ্গিনা থেকে সরাতে পারছে না। তার প্রতিকৃর্তি চোখের সামনে ভেসে উঠছে।তবুও ক্লান্ত দেহটি বিছানায় এলিয়ে দিতে দু’চোখের পাতা এক হয়ে গেল।রানার কিন্তু ঘুম আসছে না কাজিনের সঙ্গে কথা বলার জন্য মন প্রাণ ব্যকুল।ফোন দেবে দেবে ভাবতে ভাবতে কখন যে দু’চোখের পাতা এক হয়ে গেল।
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ফজরের আজান ধবনি বেজে উঠল।রানা ধড়ফড় করে উঠে নামাজ পড়তে গেল মসজিদে। নামাজ শেষে কাজিনের কথা মনে পড়তেই মুঠোফোন হাতে নিয়ে কল দিলো।ফোন বাজছে রুমা এখন ও ঘুমিয়ে। বার বার কয়েক বার বাজনার পর সে আড়মোড় খেয়ে বসে পড়লো।তারপর রিসিভ করে সালাম দিয়ে বলে উঠল,
হ্যালো কে আপনি?এই সাজ সকালে।
রানা চুপ কথা বলছে না। রুমার রাগ উঠে গেল।সে ধমকের স্বরে বলে,
কথা বলছেন না যে, কে আপনি?
রানা সাহসের সহিত নম্র স্বরে উত্তর দিলো,
ইয়ে মানে আমি রানা, যাকে আপনি হসপিটালে।
তার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রুমা বলল,
ব্যস ব্যস আর বলতে হবে না। তো আপনার শরীর এখন কেমন?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে আপনার উছিলায় আমি সম্পূর্ণ সুস্থ।
যাক টেনশন মুক্ত হলাম। আপনি কি করেন?
লেখাপড়া,মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ার।
থ্যাংকস।
আপনি?
দু’জনের একই অবস্থা। মানে আমি ও অনার্স ফাইনাল ইয়ারে।
দু’জনার আলাপ পরিচয় হলো।তারপর দু’জনে কথার ঝাপি খুলে বসলো।কথা যেন শেষ হচ্ছেন না। একেবারে ব্যাটারী লো করে তবে অফ।এভাবে পার হলো সপ্তাহ খানেক।আর ফোনালাপন ভালো লাগছে না।দু’জনের দেখা করা আবশ্যক।দেখা করার সময় বিকেল তিনটা, স্থান রমনা
পার্ক।বরাবর তিনটা এক মিনিট ও এদিক ওদিক হলো না।ফোনালাপনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সাক্ষাত হলো।দু’জন পার্কের বেঞ্চিতে পাশাপাশি বসে পড়লো।একে অপরকে ভালোভাবে দেখে নিলো।তারপর মজার গল্পে।
দু’জনার মাঝে ভালোবাসা বাসি হয়ে গেল।একে অপরের হাতে হাত রেখে বাঁচা মরার শপথ নিল।এরপর থেকে দু’জনার নিয়মিত দেখা সাক্ষাত।
রাত জেগে জেগে ফোনে প্রাণ খুলে মনের কথা বলা।সুখ দুঃখের শেয়ার করা।দু’জন দু’জনার মনের একেবারে গভীরে।
এক পলক না দেখে কেউ কাউকে থাকতে পারে না।কারো ফোন কোন কারণে বন্ধ থাকলে দু’জনার রাগ উঠে যায়।খুব গভীরে চলে গেল তাদের ভালোবাসা।
রুমার বাবা আলম চৌধুরী ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে যাবেন।মেয়ের টেক কেয়ার ঠিক মতো করার জন্য কাজের লোকদের প্রতি হুশিয়ারী সংকেত।
ঠিক সেই মহুর্তে রুমা বাবার সামনে দাঁড়িয়ে কান্না ভেজা কণ্ঠে বলে,
বাবা টাকাই কি মানুষের জীবনে সব!
কেন মা, কি হয়েছে?
কি হয়নি বল!তুমি কাজের লোকদের আমার টেক কেয়ার করতে বললে তাই না বাবা?
এটা বিধি কোন বিধানে লিখেছেন।বাবা মায়ের আদর যত্ন ভালোবাসা কাজের লোক পূরণ করতে পারে?
মা মনি কে বলেছে তা?
একটু আগে তুমি তো কাজের লোকদের।
বোকা মেয়ে আমি বললাম কি, আর ও বলে কি? আমার আদর স্নেহ ভালোবাসা সব তোমার জন্য।তাছাড়া এই গাড়ি বাড়ি অট্টালিকা টাকা পয়সা সব তোমার।
তোমার সুখের কথা চিন্তা করে তো এত কিছু করছি।
বাবা আমি এত কিছু চাইনা। চাই শুধু বাবার ভালোবাসা।
ঠিক আছে মা মনি আর ভুল হবে না।আজকের পর থেকে তোমার টেক কেয়ার সবার আগে, এবার খুশিতো।
ঠিক ঠিক মনে থাকে যেন।
ওকে, ভালো থেকো।
মাঝে কিছু সময় পার হলো। দু’জনের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো।ফ্রি সময় কাটাতে দু’জন বিভিন্ন জাগায় ঘুরা ঘুরি।
হাসি আনন্দের মাঝে কাটতে লাগল তাদের দিনগুলো।রুমা খুব হ্যাপি রানার মতো একজন বয়ফ্রেন্ড পেয়ে।তাদের রেজাল্ট বের হলো। দু’জন ফাস্ট ক্লাস পেল।একে অপরকে সেলিব্রেট করার জন্য গেল।বাবা আলম চৌধুরী অফিস থেকে ফেরার পথে দৃশ্যটি চোখে পড়লো।তিনি গাড়ি ব্রেক করে ভালো করে দেখে নিলেন।মেয়েটি কি তার, না অন্য।
না ঠিক ঠিক আলম চৌধুরীর কন্যা রুমা, তার প্রিয়জনের হাত ধরে।আলম চৌধুরী ভাবেন আর দেরী করা যাবে না। তাড়াতাড়ি বিয়ে।
ছোট বেলায় রুমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে তার বাবার বন্ধুর ছেলে শিফনের সঙ্গে।সে আমেরিকাতে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছে এবং সেখানে সেটেল।টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি কোন দিকে কমতি নেই।তাই আলম চৌধুরী দেরী না করে শিফনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করলেন।শিফন বাংলাদেশে ফিরতে সময় লাগবে, তাই এক সপ্তাহ পর বিয়ে।
খবরটা রুমার কানে যেতে সে রানাকে দ্রুত কল করলো।কিন্তু ফোন বন্ধ,বার বার ট্রাই করলো। কোন রকমে কল সার্ভিস হচ্ছেন না।কি আর করা বাধ্য হয়ে ছুটে গেল তার বাসায়। এখানে ও রানা নেই। তবে কোথায়?
রুমমেট দোলনকে তার কথা জিজ্ঞেস করতে সে বলল,
ম্যাম গ্রাম থেকে জরুরী খবর এসেছে। তার মায়ের সিরিয়াস অসুখ।তাই আপনাকে কিছু বলে যেতে পারেনি।ম্যাম নো টেনশন, তার মা সুস্থ হলে সে ঠিক চলে আসবে।
এতক্ষণ পর রুমার মুখ ফোটে একটা কথা বের হল,
তা বুঝলাম,কিন্তু তার ফোন বন্ধ কেন?
সেখানে এখন ও নেটওয়ার্ক সার্ভিস হয়নি।
ঠিক আছে রানা আসলে আরলি আমার সাথে দেখা করতে বলবেন। ওকে আসি।
বাসায় ফিরে রুমা মনমরা হয়ে শুয়ে আছে।বাবা আস্তে করে তার রুমে ঢুকল।তারপর কোমল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
রুমা মা মনি এ অবেলায় শুয়ে আছ যে, শরীর খারাপ?
জ্বী না বাবা আমি ভালো আছি।
কিভাবে রুমাকে বিয়ের খবরটা বলবে তাই নিয়ে চিন্তা ভাবনা।
মেয়ে যদি কিছু একটা করে বসে। তাই ভেবেচিন্তে কোমন কণ্ঠে বলল,
রুমা মা মনি আমার ভুল হয়ে গেছে। তোমাকে না জানিয়ে আমার বন্ধুর ছেলে শিফনের সঙ্গে তোমার বিয়ের দিন তারিখ।
কথাটা শুনা মাত্রই তার মাথায় সপ্ত আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।সে জোরালো কণ্ঠে বলল,
প্লিজ বাবা ওদেরকে না করে দাও। আমি এখন বিয়ে করব না।
কেন মা মনি? কোন সমস্যা।
বাবা আমি মাস্টার্স কমপ্লিট করে তবে বিয়ে করব। তাছাড়া আমি।
বল মা মনি থামলি কেন, আমি কি।
ইয়ে মানে বাবা আমি একজনকে ভালোবাসি। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
ঠিক আছে তাকে এক্ষণি ফোন কর।

বাবার আদেশ শিরেধার্য। তাই আর লেট না করে রুমা ফোন দিলো।কিন্তু দুর্ভাগ্য এখন ও তার ফোন বন্ধ।রুমা চুপচাপ।বাবা জানতে চাইল,
কিরে মা চুপচাপ যে,সে ফোন ধরছে না।
জ্বী না মানে বাবা তার ফোন বন্ধ।
আমার মনে হয় তোমাকে ছেড়ে সে পালিয়েছে। তাই ফোন বন্ধ করে রেখেছে। এটা আসল ভালোবাসা নয়, নকল ভালোবাসা। এরা টাকার জন্য বড় লোকের মেয়েদের সাথে মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করে।
জ্বী না বাবা রানা এরকম ছেলে না। সে খুব ভালো।
তাহলে ফোন বন্ধ রেখেছে কেন?
বাবা ওখানে নেটওয়ার্ক সমস্যা।তাছাড়া ওর মা খুব অসুস্থ।
বাবা আলম চৌধুরীকে কিছুতে বুঝাতে পারলো না রানা সৎ স্বভাবের একজন ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র।তার কড়া নির্দেশ ওকে ভুলে যেতে হবে এবং তার পছন্দ করা পাত্রকে বিয়ে করতে হবে।কারণ এসব ফালতু ভালোবাসার গ্যারান্টি নেই।রুমা কিন্তু থেমে নেই কড়া ভাষায় বলল,
বাবা তুমি যাই বলো না কেন,রানা ছাড়া অন্য কাউকে আমি বিয়ে করতে পারবো না।কারণ আমি ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।
বাবা ভেবে দেখলেন কড়া ভাষা প্রয়োগে ভালোর চেয়ে মন্দ হবে বেশী।তাই আবেগ মাখা কণ্ঠে বলতে শুরু।
মা মনি তোমার ছোট বেলার একটা গল্প শোন,তারপর তোমার সিদ্ধান্তই চুডান্ত।
ঠিক আছে বল বাবা।
তোর বয়স যখন তিন বছর তখন তোর মা গাড়ি এ্যাকসিডেন্টে মারা যায়।তোর টেক কেয়ার নিয়ে আমি খুব ব্যস্ত।
অনেক সময় অফিস টাইম ও মিছ দিতাম। ব্যবসার কাজে তেমন একটা মন দিতে পারতাম না। শুধু তোকে নিয়ে।
খুব টেনশন ফিল করতাম। আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সবাই আমাকে তোর টেক কেয়ারের জন্য আবার বিয়ে করতে বলল।আমি ভাবলাম সৎ মা কখনো মেয়েকে ভালো চোখে দেখবে না। কারণ সৎ মায়ের অনেক জঘন্য ঘটনা প্রায় চোখে পড়ে।তাই নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটার সিদ্ধান্ত নিলাম।তুমি আস্তে আস্তে বড় হতে।
আমি কাজে মনোযোগ দিলাম।আর এখন তোমার অভিযোগ ঠিক মতো টেক কেয়ার করি না।মা মনি তুমি জান না তোমার বাবা তোমাকে কতটা ভালোবাসে।আমি যখন রাতে অফিস থেকে ফিরি, তখন তুমি ঘুমিয়ে থাক,এতরাতে ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক হবে না।তাই তোমাকে ডিস্টার্ব দিই না। সকাল বেলা ও অনুরুপ একই অবস্থা।এত ভালোবাসা ও টেক কেয়ারের পর ও তোমার অভিযোগ।
কি নিষ্ঠুর এই দুনিয়া! মা মনি তোমার যা ইচ্ছা তাই কর। আমি অযোগ্য পিতা আর কি বলব।
বাবার করুণ কাহিনী শুনে মেয়ের মন মোমের মতো নরম হয়ে গেল।বাবাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরিয়ে কেঁদে উঠে বলে,
বাবা না জেনে তোমাকে অনেক দুঃখ দিয়েছি,আমাকে ক্ষমা করে দাও।লক্ষি বাবা আমার তুমি অনেক ভালো।আমি তোমার পছন্দ করা পাত্রকে বিয়ে করব।
সত্যি।
জ্বী বাবা সত্যি।
আলম চৌধুরী আর লেট করলো না।মহা ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলো।রুমা বাবার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে গিয়ে শিফনকে বিয়ে করলো।কিন্তু তার হৃদয়ের সমস্ত আকাশ জুড়ে রানার বিচরণ।
শিফনকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসা দিতে পারছে না।সামাজিক বিধান হিসেবে সংসার করছে এ আর কি।বাবার ঘর শুণ্য করে সে চলে গেল স্বামীর সঙ্গে আমেরিকায়।

এদিকে রানার লাইফে ঘটে গেল আর এক দূর্ঘটনা।তার অসুস্থ মা কে নিয়ে সে খুব ব্যস্ত, ডাক্তার হসপিটাল সব জাগায় দৌড়াল।তবুও মাকে বাঁচাতে পারলো না।আল্লাহপাকের হুকুম উনার আয়ু শেষ।তাই সবার ভালোবাসা উপেক্ষা করে তিনি পরপারে চলে গেলেন। মায়ের দাফন কাঁপন মেজবানী খাওয়া সব শেষ করে গন্তব্য স্থলে ফিরে গেল।রুমার ফোন বন্ধ। তাই রুমমেট দোলনকে রুমার কথা জিজ্ঞেস করলো।সে কোন কথার জাবাব না দিয়ে গুম মেরে বসে আছে।রানা কিন্তু থেমে নেই।সে কড়া ধমক দিয়ে বলে,
কিরে দোস্ত কথা বলছিস না কেন?রুমার কি হয়েছে?
রুমার বিয়ে হয়ে গেছে। সে এখন আমেরিকায়।
রুমাকে হারাতে হবে একথাটা রানা কখনো ভাবেনি। সে তাকে প্রচণ্ড রকম ভালোবাসত।তাকে ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব।বেঁচে থেকে তা সে সহ্য করতে পারবে না। তাই “ভালোবাসার” যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকগুলো ঘুমের ঔষধ এক সঙ্গে খেয়ে শুয়ে পড়লো।সকালে দোলন ঘুম থেকে উঠল।রানার কোন সাড়া শব্দ নেই।পাশে কিছু ঔষধের প্যাকেট।সে তাকে হসপিটালে নিয়ে গেল। ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করলো।রুমা ফেইস বুক ওপেন করে রানার সুইসাইড দেখে খুব কাঁদল।ইচ্ছে করলো সুইসাইড করতে। ফের বাবার ত্যাগহীন ভালোবাসার কথা মনে পড়তেই মত পাল্টে নিলো।

By | 2018-05-09T16:00:23+00:00 May 9th, 2018|ছোট গল্প|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

error: Content is protected !!