ভালবাসি – আদনান আহমেদ মেঘ

Home/ছোট গল্প/ভালবাসি – আদনান আহমেদ মেঘ

ভালবাসি – আদনান আহমেদ মেঘ

(টেবিলে মুখোমুখি বসে দু’জন মানুষ। একজন ফোনে ব্যস্ত আর অন্যজন সেই ব্যস্ততার ভাগীদার হতে আকুল।)

– ফোন থেকে কি চোখটা সরাবে?

– তুমি কি ব্যস্ত?
– নাতো! (ফোনে চোখ রেখে)
– তাহলে ভালোমতো কথা বলছো না কেন?
– কই ভালো মতই তো কথা বলছি।
– হুম।
– তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো?
– হুম
– আমরা কি একটু কথা বলতে পারি?
– কথা বলছি তো
– প্লিজ ফোনটা রাখবে?
– ওহহহ, হুম অবশ্যই। রাখলাম, এবার বলো।
– তুমি আমাকে ভালোবাসো?
– (অন্য মেয়েদের দিকে তাকিয়ে আছে)
– আচ্ছা তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে
আসছো নাকি ফোন ইউস করতে আর অন্য
মেয়েদের দেখতে আসছো?
– কী সব আজিব বলতেছো। আগে কি বলতেছিলা
বলো।
– তুমি আমার কথা একবারও মন দিয়ে শোনো নি!
– আচ্ছা এবার সব বাদ। কেবল তোমার কথা
শুনবো।
– তুমি আমাকে ভালোবাসো?
– হঠাৎ এই প্রশ্ন?
– বলো।
– অবশ্যই ভালোবাসি! (দুইহাত দিয়ে তিথীর মুখটা
ধরে) তুমিই তো আমার সব।
– তাহলে আগের মতো আমাকে গুরুত্ব দাও
না কেনে?
– কই! দিচ্ছি তো। তোমার যেটা দরকার সেটা দেই,
ঘুরতে নিয়ে যাই, প্রায়ই মিট করি এগুলো কি
গুরুত্ব দেওয়া নয়?
– আমি তো এগুলো চাই না।
– তাহলে?
– আমি পুরনো মেঘটাকে চাই।
– মানে?
– আমি সেই মেঘকে চাই যে আমার খেয়াল রাখবে,
আমাকে বুঝবে, আমার কেয়ার করবে।
– সেগুলো তো আমি করি!
– না করো না। করলে এরকম আচরণ করতে না।
এখন দেখা করলেও ফোনে ব্যস্ত থাকো, অন্য
মেয়েদের দেখো। আমার জন্য সময় কোথায়?
– কিসব বলছো?
– ঠিকই বলছি। আমার জন্য এই রিলেশনটা রাখা
আর সম্ভব না!
– মজা করছো আমার সাথে?
– নাহ! আমি সিরিয়াস।
– হুট করে এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিচ্ছো?
– বাধ্য হচ্ছি নিতে।
– তুমি সিউর?
– হ্যাঁ
– তাহলে আমি মানা করব না।
– এটাই আমাদের শেষ দেখা।
– ওহহহ!
– আমি এখনই উঠব।
– তুমি বসো। আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি।

(মেঘ ওয়াশরুমে গেলে তার ফোনে একটা ফোন আসে। ১ম ২ বার বাঁজলেও তিথী সেটা লক্ষ্য করে নি। তবে ৩য় বার বাঁজলে অপরিচিত নাম্বার যেহেতু তাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তিথী ফোনটা রিসিভ করে।)

– হ্যালো, স্যার..
– হ্যালো।
– কে বলছেন?
– এই ফোনের মালিক আমার fiance.
– ওহহ ম্যাম! স্যার গত পরশু আমাদের শপ থেকে
একটা গিফট ওর্ডার করেছিলো।
কালকে আমরা এটা ডেলিভার করতে পারি নি।
তাই সকালে স্যার এটা পার্কসাইড রেস্টুরেন্টে
ডেলিভার করার জন্য বলেছিল। সেটাই
ডেলিভার করার কথা ছিল। আমাদের
ডেলিভারিম্যান সেটা নিয়ে পৌঁছে গেছে। স্যার কি
সেটা রিসিভ করবেন?
– জ্বী, আমি তাকে বলছি।
– থ্যাংকইউ ম্যাম।

(তিথী একটু অবাক হলো। কী এমন গিফট কিনলো মেঘ যে এখানে আনতে বললো! কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মেঘ চলে আসে।)

– মেঘ
– হুম, তুমি উঠবে?
– তোমার একটা গিফট আসছে। গিয়ে পিক করতে
বলছে। এইখানেই রেস্টুরেন্টের সামনে এসেছে।
– ওহহ! তুমি আরেকটু বসো। আমি ওইটা নিয়ে
আসছি।

(মেঘ গিফটটা এনে তিথীর কাছে দেয়)

– এটা আমার জন্য?
– হুম।
– হঠাৎ গিফট কেনো? ইম্পোর্ট্যান্স দেখাচ্ছো?
– হ্যাপি ফিফথ রিলেশনশীপ এনিভার্সেরি!
– মানে!
– আজকে আমাদের রিলেশনশীপের ৫ বছর পূর্ণ
হল!
– তোমার মনে আছে?
– হুম, খুলবে না ওইটা?
– হুম, খুলছি।

(গিফটটা খুঁলে তিথী কিছুটা অবাক হয়। বাক্সের ভিতর কিছু লেখা একটা চাবির রিং!)

– চাবির রিং! ইচ্ছেঘর! (চাবির রিংয়ে লেখা)
– হুম। মনে আছে তুমি বলেছিলে আমাদের বাড়ির
নাম হবে ইচ্ছেঘর।
– হ্যা, মনে আছে। কিন্তু..
– (তিথীর সামনে হাটু গেড়ে) তিথী, তুমি আমার
অপূর্ণ বাড়িটাকে তোমার ছোঁয়া দিয়ে পূর্ণ করবে?
– (ছলছল চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে)
– উইল ইউ ম্যারি মি?

– (তিথী যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে
গেছে! এমন কিছু ঘটবে বিশ্বাসই করতে পারছে না!)
– তিথী, উইল ইউ ম্যারি মি?

– ইয়েস (কেঁঁদে দিয়ে)

(এবার তিথীকে আরও চমকে পকেট থেকে একটা আংটি বের করে তিথীর আঙুলে পড়িয়ে দেয় মেঘ। পড়িয়ে দিয়ে তিথীর চোখে চোখ রেখে বলে..)

– তিথী, তুমি একবার প্রশ্ন করেছিলে তোমাকে
কেনো ভালবাসি? জানো.. অনেক ভাবলাম,
অনেক খুঁজলাম এর উত্তর। তবে উত্তর পাই নি।
কিন্তু এটা বুঝতে পেরেছি অনেক ভালবাসি
তোমাকে। আর এটাও বুঝতে পেরেছি, তোমাকে
ভালবাসার জন্য কোনো আলাদা কারণ দরকার
নাই। তোমাকে ভালবাসি কারণ ‘ভালবাসি’।
-ভালবাসি(মেঘের কপালে নিজের কপাল ঠেঁকিয়ে তিথীও
বলল)

By | 2018-06-14T18:44:04+00:00 June 14th, 2018|ছোট গল্প|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

error: Content is protected !!