একান্ত একা – গোলাম রাব্বানী টুপুল

Home/ছোট গল্প/একান্ত একা – গোলাম রাব্বানী টুপুল

একান্ত একা – গোলাম রাব্বানী টুপুল

এই গভীর রাতেও চোখে ঘুম নেই রাহেলা বেগমের। জানালা খুলে বাইরে তাকায় নিঃশব্দে। শান্ত শহর। কালেভদ্রে দু একটা কানা ট্রাক আর লরি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি নেই। চৌরাস্তায় ট্রাফিক থাকে না রাতে। একেবারে ফাঁকা ময়দানের মত পড়ে আছে রাস্তা। মনে হচ্ছে শিকার গিলে অজগরের মত নীরব ঘুম দিয়েছে পিচ ঢালা পথটা। অথচ চৌরাস্তার এই অংশটুকু দিনের বেলায় ভিন্ন চেহারা।

উঠে বসে রাহেলা বেগম। বাইরে জানালার ধারে লাইটটায় বাদলাপোকার সমাবেশ। আলোয় এসে কতজনই জ্বলে মরছে। হায়রে জীবন। বেড়ে উঠতে কত ক্লেশ। অথচ মৃত্যু কত সহজ। এমন ভাবনা রাহেলা বেগমকে উদাসী করে তোলে। নিজের অজান্তে চোখযুগল ছল ছল করে ওঠে।

আজ ছিল মুর্শেদের মৃত্যুবার্ষিকী। বাদলাপোকার মতই ছিল তার ক্ষণিক জীবন। হঠাৎ হার্টএ্যাটাকে মারা যায় তাগড়া যোয়ান মানুষটি। দেখতে দেখতেই দশ বছর গত হল। অথচ মনে হয় এইতো সেদিনের কথা।
রাহেলা নিজেকে প্রশ্ন করে স্বগত উত্তর খোঁজে। মানুষ কেন এতো সহজেই চলে যায়!?

এতো অল্প বয়সে বিধবার সাজে তাকে বেমানান। তবুও রাহেলা মুর্শেদকে ছাড়া আর কাউকে কল্পনা করতে পারে না। পরিবারে চাপাচাপি সইতে না পেরে এখানে বাসা ভাড়ায় থাকতে হচ্ছে তাকে। নিজের চাকরি কে বাঁচাতে গিয়েই আজ রাহেলার এমন দুর্দিন। সেদিনের কথা মননে হলে নিজের অজান্তেই চোখ ছলছল করে ওঠে।
নতুন চাকরি। এমন অবস্থায় সংসারে নতুন কেউ আসুক তা চায়নি রাহেলা বেগম। তবুও জরায়ুতে কারো অস্তিত্ব টেরপায় রাহেলা। মুর্শেদ মনে মনে এতো খুশি হয় তবু রাহেলার বিরক্তি ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে প্রকাশ করে না কিছুই। ভেতরে ভেতরে যে স্বপ্নের জাল বুনেছে মুর্শেদ তা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে। সুখের ক্ষণ বড়ই ক্ষণস্থায়ী। পিতৃত্বের স্বাদ নিতে দেয়নি রাহেলা। নার্স কশাইয়ের মত একটি একটি করে তাজা অঙ্গ কেটে বের করে যখন ট্রের উপর রাখছিল বাইরে অপেক্ষারত মুর্শেদের হৃদয় ভেঙে ভেঙে যাচ্ছিল। এর পরর থেকেই ওর বুকে ব্যথা। কত ডাক্তার কবিরাজের পেট ভরিয়েছ তার হিসেব নেই। তবুও ওপারে অভিমান করে চলে গেল মুর্শেদ।
রাহেলা বেগম এখন একা একান্তই একা। প্রায়শ্চিত্ত শেষে ওপারের খেয়ার অপেক্ষায় দিন গোণে।

By | 2018-06-14T19:01:35+00:00 June 14th, 2018|ছোট গল্প|0 Comments

About the Author:

Leave A Comment

error: Content is protected !!